সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একদল যুবক রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে অফিস কক্ষ ও অডিটরিয়ামের দরজা-জানালা ব্যাপক ভাঙচুর ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ ঘটনার পর গতকাল বুধবার সকালে অনিবার্য কারণবশত রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। এ বিষয়ে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টোরিয়ান হাবিবুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্র কাছারিবাড়িটি বর্তমানে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এ ঘটনার তদন্তে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ কামাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দুবাইপ্রবাসী শাহনেওয়াজ বাদী হয়ে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টরিয়ান ও কর্মচারীসহ নয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। শাহজাদপুর রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টরিয়ান হাবিবুর রহমান, শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী, শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুশফিকুর রহমান ও দুবাইপ্রবাসী মো. শাহনেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, শাহজাদপুর পৌর সদরের রূপপুর মহল্লার দুবাইপ্রবাসী শাহনেওয়াজ ঈদের পরের দিন স্ত্রী ও এক ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে মোটরসাইকেল পার্কিং ফি নিয়ে মেইন গেটের এক কর্মচারীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি ও ওই দর্শনার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা গত ১০ জুন বেলা ১১টার দিকে শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির সামনের সড়ক অতিক্রম করার সময় বিক্ষুব্ধ যুবকরা উত্তেজিত হয়ে কাছারিবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে অফিস কক্ষ ও অডিটরিয়ামে হামলা ও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুশফিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
