হজের মূল কার্যক্রম শেষ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর হজের আনুষঙ্গিক কাজে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে সৌদি সরকার। এ বছর সৌদি আরবের সরকারি ও বেসরকারি খাতের ৪ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি কর্মী প্রায় ১৭ লাখ হজ পালনকারীকে সেবা দিয়েছেন। সম্পতি সৌদি পরিসংখ্যান কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সেবাদানকারী এসব কর্মীর মধ্যে ৯২ শতাংশ ছিলেন পুরুষ এবং ৮ শতাংশ নারী। মোট জনবলের মধ্যে ৩৪ হাজার ৫৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক পবিত্র স্থানগুলোতে ২১ লাখ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সেবা প্রদান করেছেন। পুরুষ ও নারী স্বেচ্ছাসেবকরা স্বাস্থ্য, লজিস্টিকস এবং হজযাত্রীর সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক খাতে কাজ করেছেন।
প্রতিবেদনটিতে ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’-এর সাফল্যের কথাও উল্লেখ করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৩৭ জন হজযাত্রী, যা মোট বিদেশি হজযাত্রীর প্রায় ২১ শতাংশ, তারা নিজ দেশের বিমানবন্দর থেকেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হজে আসার সুযোগ পান। বর্তমানে আটটি দেশের যাত্রীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন, যা সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনা সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মোট প্রায় ১৭ লাখ হজযাত্রীর মধ্যে ১৫ লাখের বেশি বিদেশি যাত্রী আকাশ, স্থল ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করেন। আর ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৪ জন ছিলেন অভ্যন্তরীণ হজযাত্রী, যাদের মধ্যে সৌদি নাগরিক ও দেশটির অভ্যন্তরীণ বাসিন্দারা অন্তর্ভুক্ত। এ বছর হজযাত্রীদের মধ্যে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় সমান, ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪১ জন পুরুষ এবং ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৯ জন নারী।
সৌদি পরিসংখ্যান কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যানগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক রেকর্ড থেকে সংগ্রহ করে গত পাঁচ বছরে উন্নতকৃত এক বিশেষ পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কমপ্লায়েন্স সেন্টার হজ মৌসুমে ৭০ হাজারেরও বেশি সরেজমিন পরিদর্শন করেছে, যার আওতায় হজযাত্রীদের আবাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রান্নাঘরগুলো পর্যন্ত বিভিন্ন সুবিধা পর্যালোচনা করা হয়েছে। সৌদি আরবের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে চালু করা ‘নুসুক কেয়ার’ উদ্যোগটি হজযাত্রীদের ৮ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি সরাসরি সেবা দিয়েছে। এসব সেবার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং এবং ভাষাগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ উদ্যোগে ১০৭টি যোগাযোগ কেন্দ্র এবং ছয়টি বড় লজিস্টিক ট্র্যাকে ৩ হাজারের এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত ছিলেন।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতিস্বরূপ হজবিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটি ৪ লাখ ২০ হাজার ৭০ জন হজকর্মীকে ডিজিটাল প্রশংসাপত্র দিয়েছে, যা ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। অ্যাপটি সৌদি ডেটা ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অথরিটি কর্র্তৃক পরিচালিত। প্রশংসাপত্রগুলো ‘তাসরিহ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, যা হজকর্মীদের জন্য প্রথম ডিজিটাল স্বীকৃতি। সূত্র : গালফ নিউজ
