বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দ্রুতই দেশে ফিরবেন।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তার আর এস ক্যাফে রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শ্রীপুরের নিহত ও আহত ১২ পরিবারের হাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা তুলে দেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
লন্ডন সফররত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, যে কালো মেঘ দেখা দিয়েছে, এ বৈঠকের মাধ্যমে তা কেটে যাবে। এর মাধ্যমে ঘাতকের বিচার, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচন, পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে দেশ পুনর্গঠনে ব্যয় করার পথ খুলবে। দ্রুত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরবেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে বিএনপি ও জিয়া পরিবার সবসময় আছে ও থাকবে বলে নিশ্চয়তা দিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি জনগণের দল, বিএনপির কাছে আগে দেশ ও দেশের মানুষ। শত ষড়যন্ত্র ও বিপদেও বিএনপি দেশ ছেড়ে কোথাও যায়নি। বিএনপি মানুষের পাশে থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজাহারুল আলম।
শ্রীপুর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ব্যাপারীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর ইউসিসিএর চেয়ারম্যান এসএম মাহফুল হাসান হান্নান, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা মাসুদ রানা, সদর বিএনপি নেতা তাহের মুসুল্লী, তেলিহাটি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবু জাফর সরকার প্রমুখ।
শ্রীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশিদুল হাসান নয়ন বলেন, প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ছয়জনের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ও আহত ছয়জনের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত শ্রীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান ও প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ শহীদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেন অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। পরে উপজেলার ধামলই গ্রামে আওয়ামী লীগের আমলে কারাগারে নিহত বিএনপি নেতা হীরা খানের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নেন ও কবর জিয়ারত করেন।
তিনি এরপরে কাওরাইদ কেএন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৫ ব্যাচের আয়োজনে গণসংবর্ধনা ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এতে সাবেক স্কুলশিক্ষক মোছলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ডা. মো ফাখারুর ইসলাম রানার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডা. মাজহারুল আলম, পীরজাদা এস এম রুহুল আমিন, ডা. মোহাম্মেদ আলী ছিদ্দিকী, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, শাহজাহান ফকির, আব্দুল মোতালেব, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, শেখ ইসহাক আলী, আশরাফ উদ্দিন, মজিবুর রহমান সুলতান, আলমগীর মাহমুদ আলম, বিল্লাল ব্যাপারী, এমদাদ ম-ল ও আতাউর রহমান আতা।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সামনে আমাদের কঠিন দিন আসছে। তাই দলের মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলা করা যাবে না এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। এটা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশ।
