ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কিছু সহকর্মীর বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং অসদাচরণের অভিযোগ এনে স্বেচ্ছায় চাকুরি থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন কক্সবাজার সদর থানাধীন সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল আব্দুল কাইয়ুম ওরফে রিমন (কং/১৩৭১, বিপি-৯৮১৮২০৭৯৯৮)।
অব্যাহতি চেয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারকে দেওয়া তার (কনস্টেবল রিমন) আবেদনটি গত ৮ জুন সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অগ্রবর্তী করা হয়েছে। ওই চিঠির কপি দেশ রূপান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।
কনস্টেবল রিমন তার অব্যাহতির আবেদনে কক্সবাজার সদর থানার বর্তমান ওসি’র নাম না লিখলেও তিনি (ওসি) এবং দুজন উপপরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপরিদর্শক (এএসআই), থানার মুন্সিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও অসদাচরণের অভিযোগ আনেন। আবেদনটিতে তিনি (কনস্টেবল রিমন) লিখেন ওসির পার্সোনাল টিম সদস্যের বাইরে কেউ বাইরে যেতে পারেন না। থানায় একটা জিডি হলেও ওই টিমের সঙ্গে কথা বলতে হয়।
থানার এসআই নুর মোহাম্মদ, এসআই চিন্ময় বড়ুয়া ও বেতার অপারেটর কনস্টেবল উপায়নসহ আরও কয়েকজন মিলে থানা পরিচালনা করেন। তাদের কথার বাইরে কেউ গেলে বদলি হতে হয়। গেল তিনমাসে তাকে (কনস্টেবল রিমন) টিএ বিলের কোনো ডিউটি দেওয়া হয়নি। একদিনে দুইবারও ডিউটি করতে হয়েছে রিমনকে। এএসআই আসাদ ও মুন্সি ফোরকান সেবাপ্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগের বিচার-সালিশ করেন। এএসআই আসাদের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দ করতে পারেন না। কারণ তিনি ওসির পছন্দের লোক।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শনিবার (১৩জুন) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে কল করলে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু একাধিতবার কল করলেও সাড়া দেননি কক্সবাজার জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
কক্সবাজার সদর থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াছকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার থানায় রিমন নামের কোনো কনস্টেবল আছে কিনা আমার জানা নেই। কনস্টেবল আবদুল কাউয়ুম ওরফে রিমনের স্বেচ্ছায় চাকুরি ছাড়ার বিষয়েও আমার কিছু জানা নেই।’ এক প্রশ্নের উত্তরে কক্সবাজার সদর থানায় এসআই নুর মোহাম্মদ, এসআই চিন্ময় বড়ুয়া ও বেতার অপারেটর কনস্টেবল উপায়ন কর্মরত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি মো. ইলিয়াছ।
অব্যাহতির আবেদন সুত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল আবদুল কাউয়ুম ওরফে রিমন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। বদলি সূত্রে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই কক্সবাজার জেলা পুলিশে যোগদান করেন তিনি। কক্সবাজার সদর থানায় কর্মরত থাকার সময় গত বছরের ১৮ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর দশ দিনের নৈমত্তিক ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যান কনস্টেবল রিমন। এ সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে নোয়াখালী জেলা পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসা শেষে গত ৯ মার্চ কর্মস্থল কক্সবাজার সদর থানায় যোগদান করেন।
কনস্টেবল রিমনের বাবা তিনমাস ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কনস্টেবল রিমনের সঙ্গে ডিউটি করা নিয়ে কক্সবাজার সদর থানার মুন্সি ফোরকান উদ্দিন অসদাচরণ করেছেন। তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন। একপর্যায়ে থানায় সেন্ট্রি ডিউটি করাকালীন মুন্সি ফোরকান সেখানে উপস্থিত হয়ে কনস্টেবল রিমনকে চাকুরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (মো. ইলিয়াছ) জানালে ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে উল্টো তিনি (ওসি) রিমনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ ঘটনার দুই দিন পর কনস্টেবল রিমনকে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করে দেন ওসি।
পরে কনস্টেবল রিমন বদলির আদেশ পুর্নবিবেচনার আবেদন করলে সেটি থানার মুন্সি ফোরকান ও উপসহকারী পরিদর্শক আসাদ কৌশলে আবেদনটি লুকিয়ে রাখেন। শেষতক তাকে (কনস্টেবল রিমন) সময় না দিয়ে সেন্ট মার্টিন পুলিশ ফাঁড়িতে বদলির ‘সিসি’ (ছাড়পত্র) বের করেন মুন্সি ফোরকান। অথচ একই থানায়ে কর্মরত গাড়ি চালক কনস্টেবল মামুনকে এক বছর আগে বদলির আদেশ হলেও এখনো তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। কনস্টেবল রিমনের অভিযোগ তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।
