নতুন ফরম্যাটের ক্লাব বিশ্বকাপে রূপকথার কোনো জায়গা রাখেনি বায়ার্ন মিউনিখ। সাবেক ডিফেন্ডার ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে মাঠে নামা জার্মান জায়ান্টরা একেবারে যন্ত্রের মতো নিষ্ঠুর হয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে শখের ফুটবল খেলা দল অকল্যান্ড সিটিকে। ১০-০ গোলের জয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে পেশাদার ও অপেশাদার ফুটবলের ব্যবধান কতটা!
ছয় মিনিটেই শুরু, তারপর গোলবন্যা
মাত্র ছয় মিনিটেই শুরু। কিংসলে কোমান হেড থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে পান। এরপর সাচা বোয়ে, মাইকেল ওলিসে, কোমান আবার, কিংবদন্তি টমাস মুলার এবং প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ওলিসের ঝলক—সব মিলিয়ে বিরতিতে ৬-০।
মুসিয়ালার হ্যাটট্রিক, কেইনকে ছাড়িয়ে যায়নি বায়ার্ন!
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা জামাল মুসিয়ালা মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন। হ্যারি কেইনের পরিবর্তে মাঠে নামেন তিনি, এবং শুরুতেই দুর্দান্ত এক গোল করেন। এরপর একটি পেনাল্টি আদায় করে নিজেই তা গোলে রূপান্তর করেন। শেষদিকে গোলকিপার কনার ট্রেসির পাস কেটে নিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ম্যাচের শেষ গোলটি করেন টমাস মুলার।
অকল্যান্ডের একমাত্র আশার আলো—একটি শট অন টার্গেট!
৮০তম মিনিটে অকল্যান্ডের অ্যাঙ্গাস কিলকলি করেন ম্যাচে তাদের একমাত্র অন টার্গেট শট, ৩০ গজ দূর থেকে। তবে সেটি ছিল মানুয়েল নয়ারের জন্য বেশ সহজ সেভ।
শেষ পাঁচ মিনিটে ১১তম গোলের খোঁজে
শেষ পাঁচ মিনিটে বায়ার্ন চেষ্টা করে ১১তম গোলের জন্য, কিন্তু তাতে আর সাফল্য আসেনি। তবে ১০-০ তেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে কোম্পানির দলকে।
অকল্যান্ডের গল্প শেষ
অকল্যান্ড সিটি ক্লাব বিশ্বকাপে ১২তম বারের মতো অংশ নিচ্ছে। ২০১৪ সালে তারা হয়েছিল তৃতীয়, কিন্তু এবার সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ক্লাবের অধিনায়ক মারিও ইলিচ ম্যাচের আগে বলেছিলেন, “আমরা বিশ্বজুড়ে অপেশাদার ফুটবলারদের প্রতিনিধিত্ব করছি।” কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তাদের কোনো সুযোগই দেননি কোমান-ওলিসে-মুলাররা।
ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে ১০ গোলের জন্য লেগেছিল ৫২ বছর—১৯৮২ সালে হাঙ্গেরি ১০-১ গোলে হারিয়েছিল এল সালভাদরকে। অথচ ফিফার নতুন ফরম্যাটের ক্লাব বিশ্বকাপে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলল বায়ার্ন মিউনিখ।
পুরনো ফরম্যাটে যেখানে মাত্র সাতটি দল অংশ নিত, সেখানে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় ছিল ২০২১ সালে আল-হিলালের ৬-১ গোলে আল-জাজিরাকে হারানো।
×
