যুদ্ধ প্রস্তুতির সম্ভাবনা

মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ও রিফুয়েলিং বিমান

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ০৯:২৩ পিএম

চলমান ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী নিমিৎজ মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সোমবার সকালে রণতরীটি রওনা করে। একই সময়ে, মার্কিন বিমানবাহিনীর ৩০টিরও বেশি এরিয়াল-রিফুয়েলিং বিমান আটলান্টিক পেরিয়ে পূর্ব দিকে যাত্রা করেছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস নিমিৎজের চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ভিয়েতনামের দানাং বন্দর পরিদর্শনের কথা ছিল।

তবে হ্যানয়ের মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘জরুরি অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তায়’ ২০ জুনের সেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিকের তথ্যে দেখা গেছে, আজ সোমবার সকালে ইউএসএস নিমিৎজ দক্ষিণ চীন সাগর ত্যাগ করে পশ্চিম দিকে যাত্রা করেছে।

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে এই রণতরির গতিপথ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে মার্কিন দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়মিত উপস্থিতির অংশ হিসেবে নিমিৎজ গত সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করে।

এদিকে সোমবার ভোরে ৩০টিরও বেশি কেসি-১৩৫ এবং কেসি-৪৬ এরিয়াল-রিফুয়েলিং বিমান আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে মার্কিন ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যে উঠে এসেছে। মূলত নিজ দেশ থেকে অনেক দূরে হামলায় অংশ নেওয়া বিমানে জ্বালানি সরবরাহে এ ধরনের ট্যাংকারের প্রয়োজন হয়। যেমন- প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরে ইরানে হামলা চালানো ইসরায়েলি বিমান।

তবে এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ট্যাংকারগুলো ইউরোপে ন্যাটোর নির্ধারিত মহড়ায় অংশ নিতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস নিমিৎজের পুনঃমোতায়েন এবং এরিয়াল-রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কারগুলোর এমন চলাচল মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির সম্ভাবনাকে প্রবল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত।

ইসরায়েলের হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার দাবিতে ইরানি কর্মকর্তা ও সরকারের সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এমন ইঙ্গিতকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার অভিযোগ করে বলেন, ‘মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এই আগ্রাসনের অংশ।’

তিনি বলেন, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা তেহরানের সঙ্গে আলোচনাকে কার্যত অর্থহীন করে তুলেছে উল্লেখ করে বাকাই যুক্তরাষ্ট্রকে আগ্রাসন স্বীকার করার আহ্বান জানান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সম্পদ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে তাকে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সঙ্গে জড়িত নই এবং এ অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত