সচিবালয়ে আন্দোলন

আলোচনায় সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৫, ০৩:০৫ এএম

সংশোধন বা পরিবর্তন নয়, অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে আবারও জোরদার আন্দোলন শুরু করেছেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ের বাদামতলায় জমায়েত হয়ে পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন ভবনের নিচে সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। তারা জানান, আজ মঙ্গলবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিকে আলোচনার আমন্ত্রণ না পেলে নতুন দাবি যুক্ত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

গতকাল বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম এসব কথা জানান। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের দাবিতে আমরা মাঠে-ময়দানে ঘুরছি। এ কালো অধ্যাদেশ গোপনে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পাস করানো হয়েছে। আমরা এর সঙ্গে জড়িতদের ধিক্কার জানাই এবং এটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। সরকার আমাদের সঙ্গে সাপলুডু খেলা খেলছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে দেওয়া বিশেষ প্রণোদনা ভাতা ছিল ‘ফাঁকিবাজি’ ও ‘প্রতারণা’। তিনি বলেন, এটি বিশেষ সুবিধা নয়, বিশেষ প্রতারণা। আমরা এটি মেনে নেব না।

মো. নুরুল ইসলাম বলেন, অধ্যাদেশ জারির আগে আলোচনার প্রজ্ঞাপন থাকলেও এখনো কোনো প্রস্তাব পাননি তারা। আমরা রোদে পুড়ে আন্দোলন করছি আর সরকার এসিতে বসে আছে। যদি আমাদের কথায় কান না দেওয়া হয়, তাহলে বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মেলন ডাকতে বাধ্য হব। আমরা কোনো সংশোধন বা পরিবর্তন চাই না, শুধু অধ্যাদেশ বাতিল চাই। পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, মঙ্গলবার প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা মিছিল নিয়ে আসবেন। যদি না আসেন তাহলে ধরে নেব তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর।

মো. নুরুল ইসলাম বলেন, এ অধ্যাদেশ বাতিল করলে আমরা নীরবে ঘরে ফিরে যাব। যদি আমাদের আগুন জ্বালিয়ে আপনারা খেলা করতে চান, তাহলে আমরা এমন খেলা খেলব আপনারা ঘরে ঢুকতে পারবেন না। আপনারা সে কাজ করতে বাধ্য করবেন না।

আইন উপদেষ্টার বক্তব্য: আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে। গতকাল সচিবালয়ে জাতিসংঘের বলপ্রয়োগে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে গুম সম্পর্কিত কার্যনির্বাহী দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের পর সাংবাদিকদের উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিকেল ৪টার দিকে আইনটি পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি বৈঠকে বসছে। সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিতে আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে সরকার।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি তখন (অধ্যাদেশটি অনুমোদনের সময়) বিদেশে ছিলাম। আমি আইনটি প্রণয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলাম না। তো, পরবর্তীকালে যখন আমি আইনটি দেখেছি, তারপর আমার কাছে মনে হয় যে কিছু কিছু জায়গায় অবশ্যই এটা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।’

আইন উপদেষ্টা জানান, কমিটি বিকেল ৪টায় বৈঠকে বসে সরকারি কর্মচারীরা যেসব দাবি দিয়েছেন, সেগুলোর কী কী বিবেচনা করা হবে, কীভাবে করা হবে, তা ঠিক করবে। ঠিক করার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কমিটির প্রতিবেদন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তোলা হবে।

এ পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, কমিটির কাজ যদি পছন্দ না হয়, তাহলে (কর্মসূচি) দেন। সরকারি কাজে যেন ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে কর্মচারীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত