ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাদা দলের আয়োজনে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিক্ষাদর্শন ও কর্মসূচি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মঈন খান বলেন, ‘বিগত সরকার ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। গ্রাম-গঞ্জের স্কুল সরকারি হয়েছে তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যায় না। এ জন্য তারা দায়ী নয়। সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার হয়তো চেয়েছিল জাতিকে মূর্খ করে রাখতে। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করেছিলেন। যার সুফল দেশবাসী পেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের শিক্ষাদর্শন ও কর্মসূচি নিয়ে পিএইচডি গবেষণা হতে পারে। তিনি যে শিক্ষানুরাগী ছিলেন সেটি তার হিযবুল বাহারে মেধাবীদের নিয়ে যে সমুদ্রযাত্রায় গিয়েছিলেন তা প্রমাণ করে। তিনি দেশের মানুষকে সুশিক্ষা দেওয়ার জন্য বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে যারা নিজেদেরকে জনগণের দল বলে মনে করে তারা কেন জাতিকে পরিকল্পিতভাবে মূর্খ করে রাখতে চেয়েছিল?’
মঈন খান বলেন, ‘শহীদ জিয়া উন্নয়ন উৎপাদনের কথা বলতেন। তিনিই প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে চিন্তা করছিলেন। তিনি বাস্তবমুখী শিক্ষার কথা বলেছিলেন। তার অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। মাত্র সাড়ে তিন বছর তিনি দেশের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। জীবনে এমন কোনো খাত নেই যেখানে তার অবদান নেই।’
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা কিন্তু অস্ত্রের কারণে শক্তিশালী দেশ হয়নি। তারা মেধার ভিত্তিতে শক্তিশালী। যদি সারা বিশ্বের এক হাজার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা করা হয় তাহলে সেখানে ৭০/৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়ই আমেরিকার। তাই আমাদের মেধায় এগিয়ে যেতে হবে।’
সেমিনারে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মানুষকে স্বনির্ভর করতে জিয়াউর রহমানের ছিল মহান পরিকল্পনা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন কিন্তু কখনোই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেননি। তিনি বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কথা শুনেছেন, যা গণতন্ত্রের নমুনা ও বৈশিষ্ট্য। তিনি গণমুখী শিক্ষা প্রবর্তন করেছিলেন। যাতে উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অর্থনীতি, শিক্ষা, রাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে একটি ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। বিশ্বে তাকে বলা হয় একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক। তার দক্ষ ও গতিশীল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে ফারাক্কা ইস্যু জাতিসংঘ পর্যন্ত গেছে। ফলে চীন নিন্দা জানিয়েছে, জাতিসংঘও প্রতিবাদ করেছে। জিয়াউর রহমান সবসময় নিজ দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন।’
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এমন ক্রান্তিকালে আমরা প্রত্যাশা করি আগামীর বাংলাদেশ হবে শিক্ষানির্ভর।’
সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালামের পরিচালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
