চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা অঞ্জলী দেবী হত্যা মামলার রহস্য সাড়ে ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টায় নগরের চকবাজার তেলিপট্টি মোড়ের উর্দু গলিতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। চার যুবক রামদা দিয়ে অঞ্জলীকে হত্যার পর অস্ত্রটি ব্যাগে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু এত বছরেও পুলিশ ওই যুবকদের পরিচয়, হত্যার উদ্দেশ্য বা মদদদাতাদের শনাক্ত করতে পারেনি। নিহতের পরিবার আজও এ প্রশ্নের উত্তর জানে না।
মামলাটির বর্তমান তদন্ত সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) জানায়, এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত এখন অন্ধকারে হাতড়ানোর মতো। তাদের মতে, ঘটনার শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার হলে খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতো। তদন্তে জানা গেছে, হত্যার ছয় মাস পর মো. রেজা নামে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রেজা পটিয়া মাদ্রাসার কর্মচারী ছিলেন এবং হত্যার আগে অঞ্জলীর বিরুদ্ধে জুতা পায়ে নামাজের স্থানে প্রবেশ ও হিজাব নিয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকার অভিযোগ তুলে উকিল নোটিস পাঠিয়েছিলেন। পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি ডিবি।
২০১৬ সালের জুন মাসে কারাগারে অন্য মামলায় বন্দি তিন জঙ্গি এরশাদুল, সফিকুল ইসলাম ও মোসাব্বিরুল ইসলামসহ আবু সাঈদ ও এহতেশামুল হককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু তাদের কাছ থেকেও হত্যার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তাদের অধিকাংশই জামিনে মুক্ত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেছিল পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। পরে মহানগর ডিবি, পিবিআই (চট্টগ্রাম মেট্রো শাখা) এবং বর্তমানে এটিইউ, ঢাকা এর তদন্তভার গ্রহণ করেছে। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এটিইউর পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ গোলাম মাওলা। মামলাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালতে বিচারাধীন।
মামলার বাদী, অঞ্জলীর স্বামী ডা. রাজেন্দ্র লাল চৌধুরী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সাড়ে ১০ বছর ধরে তদন্ত চললেও বিচার দূরের কথা, খুনিদের পরিচয়, হত্যার উদ্দেশ্য বা পেছনের মদদদাতা কে, তা জানতে পারিনি। মৃত্যুর আগে অন্তত খুনিদের নাম জানতে চাই।’
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটিইউ বাদীর দুই মেয়ে ডা. অর্পিতা চৌধুরী ও ডা. সঙ্গীতা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বাদী জানান, হত্যার ২০ দিন পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় খুদে বার্তায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানায় জিডি করা হলেও হুমকিদাতার হদিস পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সিএমপির তৎকালীন গোয়েন্দা পরিদর্শক কেশব চক্রবর্তী তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালে নার্সিং কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব আন্দোলনের সময় অঞ্জলীকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অপপ্রচারের শিকার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, একটি উগ্রপন্থি গ্রুপ অঞ্জলীকে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করে হত্যা করেছে।
