রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী শার্ট-ক্যাপ পরিয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে হলে রাত্রিযাপন করেছেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিল করেছে হল কর্তৃপক্ষ। গত ৪ জুন হলের ১৫৩ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
শনিবার দুপুরের দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই নারী শিক্ষার্থী একই বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছিল। তবে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে অবস্থান করায় জবাবদিহি করা যায়নি। পরে ক্যাম্পাসে আসলে তাকে ডেকে জবাবদিহি করা হয়। ঘটনাটি স্বীকার করায় তার হলের আসন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, সেখানে তার বিরুদ্ধে বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
হলের প্রত্যক্ষদর্শী দুজন শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তা প্রহরী জানান, ৪ জুন ভোরে একটি ছাত্র সাইকেল চালিয়ে হল থেকে তাদের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তার সাইকেলের পেছনে একটি মেয়ে বসা ছিল, তার গায়ে শার্ট আর মাথায় ক্যাপ পড়া ছিল। বিষয়টি তাদের চোখে অস্বাভাবিক লাগায় তাকে ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
এ ব্যাপারে জানতে নাজমুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাজমুল নন বলে কল কেটে দেন। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, গত ৩ জুন তার জন্মদিন ছিল। সেদিন জন্মদিন পালন করতে গিয়ে রাত হয়ে যায়। এদিকে ওই নারী শিক্ষার্থীকে ঈদের ছুটির জন্য মেস থেকে তিন তারিখের মধ্যে চলে যেতে বলা হয়। ওই নারী শিক্ষার্থী মেসে যেতে পারবে না বলে তাকে রাখার জন্য অনুরোধ করেন। পরে তাকে রাতে হলে নিয়ে আসেন। মূলত তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য হলে নিয়ে এসেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সভাপতি ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘হল প্রশাসন মৌখিকভাবে ঘটনাটি জানিয়েছেন। হল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করেছে। সেই প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ঘটনা সত্যি হলে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগামাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা তাদের দুজনেরই শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
