হেডিংলিতে চলমান টেস্টে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস খেলেছেন ৫২ বলে ২০ রানের ধৈর্যশীল এক ইনিংস। 'বাজবল' নামের আক্রমণাত্মক, ভয়হীন ক্রিকেট দর্শনের জনক স্টোকস নিজেই যখন এমন মন্থর ব্যাটিং করেন, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে—ইংলিশ ক্রিকেটের স্বতঃস্ফূর্ততার ধারাবাহিকতা কি কোথাও থেমে যাচ্ছে?
আগ্রাসী মানসিকতা ও সাহসী ক্রিকেটের দর্শনে গড়ে উঠা বাজবল দর্শনে যেখানে স্ট্রাইক রেটই বড় শক্তি, সেখানে স্টোকসের ৩৮.৪৬ স্ট্রাইক রেট যেন ভিন্ন এক ধাঁধাঁ। যিনি এই ধারার স্থপতি, তিনিই এখন যেন এর সবচেয়ে রক্ষণাত্মক ব্যাখ্যাকারী।
২০২৩ অ্যাশেজে হেডিংলিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার ৮০ রানের ঝড়ো ইনিংসের পর স্টোকসকে আর আগ্রাসী রূপে তেমন দেখা যায়নি। এরপর থেকে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৩.৮৮—যা বাজবলের মানদণ্ডে যথেষ্ট নয়। ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে স্টোকস-ম্যাককালাম যুগে দলের গড় স্ট্রাইক রেট যেখানে প্রায় ৭৩.৯০, সেখানে স্টোকস স্পষ্টত পিছিয়ে।
ইনিংসভিত্তিক স্ট্রাইক রেট বিশ্লেষণ (অ্যাশেজ ২০২৩-এর পর থেকে):
৫০-এর নিচে স্ট্রাইক রেট (নিরুৎসাহ ব্যাটিং): ১৪ ইনিংস (৫০%)
৫০-৭৫ স্ট্রাইক রেট (মাঝারি মানসিকতা): ৮ ইনিংস (২৮.৬%)
৭৫-এর ওপরে স্ট্রাইক রেট (আসল বাজবল): ৬ ইনিংস (২১.৪%)
এই সংখ্যাগুলোই বলে দেয়, স্টোকসের ব্যাটিং এখন বাজবল দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাজবলের দাবি যেখানে ইতিবাচক মেজাজ, স্টোকস সেখানে বারবারই নিচু গিয়ারে থেমে যাচ্ছেন।
২০২৩ অ্যাশেজের পর স্টোকস ১২টি ইনিংসে ৪০-এরও নিচে স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন। উদাহরণস্বরূপ:
* ভারতের বিপক্ষে ৩৩ বলে ৬ (স্ট্রাইক রেট: ১৮.১৮)
* নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ বলে ২ (স্ট্রাইক রেট: ১৩.৩৩)
এই সময়কালে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ২৯.০৮—না আছে আগ্রাসন, না আছে ধারাবাহিকতা। একজন মিডল-অর্ডার তারকার জন্য যা মোটেও সন্তোষজনক নয়।
নিজের নামে সিরিজ শুরুর পর প্রথমবার নেতৃত্বে অ্যান্ডারসন