নাজিরপুরের পোস্ট অফিস রোডে বছর জুড়ে থাকে হাটু পানি

আপডেট : ২২ জুন ২০২৫, ০৮:০৫ পিএম

একপাশে পুরাতন ভূমি অফিসের ভাঙ্গা বিল্ডিং আর আরেকপাশে গাছপালা, মাঝখান থেকে চলে গেছে একটি পিচ ঢালাই রাস্তা। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি রাস্তা নাকি সরু খাল। কারণ বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই এটি পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এটি হচ্ছে নাজিরপুর উপজেলা পোস্ট অফিসে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা।

পোস্ট অফিস সাধারণ মানুষের কাছে এখনো অনেক জনপ্রিয় একটা সেবা প্রতিষ্ঠান। এখানে কম টাকায় ডকুমেন্ট, পার্সেল পাঠানো যায় এছাড়া এখানে রয়েছে বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিম, যেমন সেভিংস এ্যাকাউন্ট, রেকারিং ডিপোজিট, মান্থলি ইনকাম স্কিল ইত্যাদি। এছাড়া কম খরচে দ্রুত টাকা পাঠাতে অনেকেই পোস্ট অফিসের ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (ই,এম,টি,এস) পছন্দ করেন। 

রবিবার (২২ জুন) সরেজমিন গিয়ে সেবা নিতে আসা স্থানীয় গৃহিণী লাইলী বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ছেলে ঢাকায় লেখাপড়া করে তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পাঠাতে এসেছি। হাটুপানির ভিতর থেকে অনেক কষ্টে এসেছি কারণ খরচ কম ও জি,ই পি করলে গ্যারান্টেড পোস্ট মিসিং হওয়ার ঝুঁকি নেই। 

সেভিংস এ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে আসা আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু হানিফ জানান, প্রতিমাসে টাকা জমা করার জন্য আসতে হয়। এখানে ঝামেলা কম, লাইনে দাঁড়াতে হয়না তাই এখানে সেভিংস এ্যাকাউন্ট করেছি। কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা তাতে অনেক কষ্ট করে হাটু পানির ভিতর দিয়ে আসতে হয়। 

উপজেলা পোস্ট মাস্টার মো. হাবিবুর রহমান মহাজন বলেন, দেড় বছর যাবত এখানে কর্মরত আছি। আমি এখানে যোগদানের আরও অনেক আগে থেকেই এই রাস্তাটি বছরের প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এখানে সেবা নিতে আসা লোকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই সমস্যা। কয়েকবার এল, জি, ই, ডি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে জানানো হলে তারা মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কার্যকরী কোন পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি। 

নাজিরপুর এল, জি, ই, ডি'র উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল গাফফার জানান, বিষয়টি উপজেলার সমন্বয় মিটিংয়ে কয়েকবার আলোচনা হয়েছে।  উপজেলা পরিষদ প্রকল্প অনুমোদন করলে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করতে পারি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত