আমতলীতে ৬ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজ নির্মাণ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৫, ০২:০৪ পিএম

বরগুনার আমতলীতে ৬ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজ নির্মাণ কাজ। কচ্ছপের ধীর গতিতে কাজ চলার কারণে ভোগান্তিতে ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ। উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর বন্দর মাদ্রাসা সংলগ্ন খালের উপর সোয়া ৪ কোটি টাকার সেতুর কাজ ১৯ মাসের মধ্যে সমাপ্ত করার নিয়ম থাকলেও সেতুর কাজ ৬ বছর ধরে ফেলে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের অধিকাংশ টাকা তুলে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন পূর্ব পাশে গাজীপুর খালের উপর ২০১৯ সালে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৬৮ টাকা ব্যয়ে ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৭ মিটার প্রস্থের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি কার্যালয়।

সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় পটুয়াখালীর মেসার্স আবুল কালাম আজাদ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি কাজটি বিক্রি করেন পটুয়াখালীর আরেক ঠিকাদার তানভির আহম্মেদ দিপু নামের একজনের নিকট। কাজটির নির্মাণ সময় ধরা হয় ১ জানুয়ারি ২০১৯ সাল থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত। ১৯ মাসে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার গাফিলতি করে ৫ বছরেও শেষ করেনি। কাজটির ধীরগতির কারণে এ পর্যন্ত দু’দফা সময় বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ গত জুন ২০২৪ সালে শেষ করার কথা। এরপর তিনি আর সময় না বাড়িয়ে কাজটি ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়ে গেছেন।

কাজটি ফেলে রাখায় বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে ৭দিনের সময় বেঁধে দিয়ে কাজ শুরু করার জন্য বলা হয়। কিন্তু এ চিঠি প্রদানের সময় অতিবাহিত হলেও ঠিকাদার কোনো সাড়া দেয়নি।
অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার দুই পাড়ের এপার্টমেন্টাল, দু’টি পিলার ও ১টি স্লাবের কাজ করে বরাদ্দের অধিকাংশ ২ কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৮ টাকা তুলে নেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আঃ সোবহান খান বলেন, গাজীপুর খালের পূর্ব পাড়ে উত্তর দক্ষিণ পূর্ব ও পশ্চিম সোনাখালী গ্রাম। পশ্চিম পাড়ে গাজীপুর গ্রাম।

পশ্চিমপাড়ে সেতু নির্মাণস্থলের মাত্র ২০ ফুট দূরত্বে গাজীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা। পূর্বপাড় থেকে প্রতিদিন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী গাজীপুর বন্দর ঘুরে মাদ্রাসায় আসে। সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আগে এখানে একটি লোহার সেতু ছিল। নতুন সেতু নির্মাণের সময় ওই  সেতুটিও ভেঙে ফেলা হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের আড়াই থেকে ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে অনেক কষ্ট হয়। কষ্টের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন আর নিয়মিত মাদ্রাসায় আসে না।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. কালাম মোল্লা বলেন, ৫ বছর পর্যন্ত কাজটি ফেলে রেখেছে। লোকজন আসে কাজ করতে আবার চলে যায়। ঠিকাদার ঠিক মতো আসে না। স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও সাধারণ মানুষের চলাচল করতে কয়েক কিলোমিটার হেটে আসতে হয়।
রোকেয়া বেগম নামে এক নারী অভিযোগ করে বলেন,- ব্রিজ হয় না। আমাগো দুর্ভোগও শেষ হয় না। আমার বাড়ির ওপর দিয়ে ব্রিজ গেজে আমাকে একটা পয়সাও দেয় নাই।

সাব-ঠিকাদার তানভির আহম্মেদ দীপু বলেন, আশা করি ২-৩ মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করবো। কাজে অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, যথাযথভাবে কাজ করা হচ্ছে।

মূল ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাজটি চুক্তি করে অন্য এক ঠিকাদারের নিকট বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। তিনি কেন এখনো কাজটি সম্পন্ন করেননি তা তিনি জানেন না।

আমতলী উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ঠিকাদারের কাজ বাতিলের জন্য বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট আবেদন করা হয়েছে।

বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, আমি মিটিংয়ে রয়েছি। পরবর্তীতে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত