বরগুনা জেলার আমতলীতে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে পৌর শ্রমিকদল নেতা ও তার দোষরদের লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বিএনপির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের দাবিতে শনিবার (৯ মে) অর্ধশতাধিক সিএনজি চালক স্থানীয় ডাকবাংলোর হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানান।
লিখিত সংবাদ সম্মেলনে সিএনজি চালক মো. আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমতলী পৌর শ্রমিকদলের সভাপতি মো. মিল্টন হাওলাদার মারধর এবং সিএনজি চালানো বন্ধের হুমকি দিয়ে শতাধিক সিএনজি চালকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে তিন হাজার করে তিনলক্ষ টাকা এবং প্রতিদিন লাইন খরচ বাবদ প্রতিটি সিএনজির কাছ থেকে ২০ টাকা করে ৬০ হাজার টাকাসহ মোট সাড়ে তিন লক্ষ টাকা আদায় করছেন। গত ৫ এপ্রিল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় পৌর শ্রমিকদলের সভাপতি মো. মিল্টন হাওলাদার ও তার সহযোগী লাইন পরিচালনাকারী মো. সুমন নতুন বাজার চৌরাস্তা এলাকার সিএনজি স্টান্ড বসে চালকদের নিকট থেকে চাঁদা করছেন।
এ খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষনিক তিনি আমতলী থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিল্টন হাওলাদার ও তার সহযোগী সুমনকে থানায় নিয়ে যান। তদন্তে চাঁদাবাজি প্রমান পাওয়ায় ওই দিন রাতেই তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজাতে পাঠায় আমতলী থানা পুলিশ।
আমিরুল আরো বলেন, এঘটনাকে কেন্দ্র করে আমতলী উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম সোহাগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শ্রমিকলীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম মনজুকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে বিষোধগার করছেন। এবং তার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার সম্মান হানি করছেন। আমরা এঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।
সিএনজি চালক মো. আলী হোসেন বলেন, আমতলী উপজেলা বিএনপির জনপ্রিয় নেতা সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকির চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য মিল্টন ও সুমনকে পুলিশের নিকট ধরিয়ে দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সিএনজি চালক মো. ইউনুছ বলেন, সিএনজি এবং মাহেন্দ্রা চালকদের নিকট থেকে চাঁদাবাজির খবর পেয়ে গত ২ মার্চ বরগুনা-১ আমতলী-তালতলী ও বরগুনা সদর উপজেলার এমপি মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ, আমতলীর ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী, ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির, সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধাসহ চালকদের নিয়ে এক সভায় সিএনজিও মাহেন্দা স্টান্ডকে চাঁদাবাজি মুক্ত এলাকা ঘোষণা করেন। কিন্তু মিল্টন হাওলাদার এ সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবার চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন।
আমতলী উপজেলা পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম সোহাগ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে বিশোধগার কিংবা কোন ধরনের অপপ্রচার করি নাই।
আমতলী থানার অফিসার ইনচর্জ হাসনাইন পারভেজ বলেন, এখন সিএনজি, মাহেন্দ্রা স্টান্ডে কোন রকম চাঁদাবাজি হচ্ছে না। কোথাও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
