বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন চক্র শুরুর টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপে আসে বড়সড় পরিবর্তন। স্টিভেন স্মিথের চোট, মারনাস লাবুশেনকে বাদ দেওয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাম্প্রতিক লজ্জাজনক হারের পর, নতুন করে সাজানো এই ব্যাটিং অর্ডারকে অনেকেই অস্ট্রেলিয়ার ‘নতুন যুগের’ সূচনা হিসেবে দেখছিলেন। কিন্তু প্রথম ঘণ্টার ভেতরেই ১৬ ওভারে ২২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার যে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, তা প্রমাণ করে দেয়—যতই পরিবর্তন হোক, পুরনো সমস্যাগুলো থেকেই গেছে। জেডন সিলসের ৫ আর শামার জোসেফের ৪ শিকারের দিনে অজিরা গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৮০ রানে। জবাবে নেমে ৫৭ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নতুন মুখ স্যাম কনস্টাস মাত্র ৩ রান করে এলবিডব্লিউ হন শামার জোসেফের দুর্দান্ত এক বলে। পরের বলেই জীবন পেলেও ক্যামেরন গ্রিনও ৩ রানে আউট হন। জশ ইংলিস ৫ রানে অপরিকল্পিতভাবে শর্ট বল খেলতে গিয়ে আউট হন। শুধু অভিষেক হওয়া ব্যাটার নয়, অভিজ্ঞ উসমান খাজাও অল্পের জন্য রক্ষা পান। ব্র্যান্ডন কিং সহজ ক্যাচ ফেলে না দিলে তিনিও হয়তো শূন্যতেই ফিরে যেতেন। বার্বাডোজের পিচ পেসারদের পক্ষে কথা বললেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের ফুট মুভমেন্ট ও আত্মবিশ্বাসহীন ব্যাটিং দৃষ্টিকটূ দেখাচ্ছিল বার বার। প্রথম ১৫ ওভারে একটিও বাউন্ডারি আসেনি অজি ব্যাটারদের উইলো থেকে।
ডেভিড ওয়ার্নারের অবসরের পর খাজার ওপেনিং সঙ্গী হিসেবে কয়েকজনকে চেষ্টা করা হয়েছে। স্মিথ, লাবুশেন, হেড, কনস্টাস, ম্যাকসুইনি— কারোরই জায়গা পাকাপোক্ত হয়নি। মাত্র ১৭টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে কনস্টাস জাসপ্রিত বুমরাকে ছয় হাঁকিয়ে প্রশংসা কুড়ালেও এখনো আন্তর্জাতিক মানের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। গ্রিনের ব্যাটিং ছিল অনিয়ন্ত্রিত, হাতে বল লাগানোর আগ্রহ ছিল প্রবল, কিন্তু টেকনিক ছিল না। ইংলিসও ধৈর্য হারিয়ে বাউন্সি বল খেলতে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে দেন। একটা কঠিন পিচে, বিদেশে মাত্র একটি ইনিংস দেখে মন্তব্য করা অনুচিত হলেও খুব ভালো নিদর্শন দেখাতে পারেননি অজি টপ অর্ডাররা।
তবে এই চাপে আবারও ভরসা হয়ে দাঁড়ান অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার — উসমান খাজা ও ট্রাভিস হেড। খাজা ১২৮ বলে ৪৭ রান করেন, যদিও শুরুতেই তার ক্যাচ ফেলে দেন রোস্টন চেজ। শেষ ৪২ ইনিংসে মাত্র ২টি সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন তিনি। অন্যদিকে হেড ছিলেন দুর্দান্ত। মাত্র পঞ্চম বলেই চার মেরে ইনিংসে প্রাণ ফেরান। এরপর কভার ও পয়েন্টে দুর্দান্ত শট খেলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের গতি বাড়িয়ে দেন। ৫৩ রানে একটি বিতর্কিত রিভিউয়ের সাহায্যে রক্ষা পান হেড, যা তার ইনিংস বাঁচায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগেরবার ‘কিং পেয়ার’ খাওয়া হেডের জন্য এটি ছিল অনেকটা প্রতিশোধের মতো।
দিন শেষে স্পষ্ট যে, নতুন মুখ এনে চমক সৃষ্টি করার চেয়ে টেকনিক্যাল দুর্বলতা কাটানো এবং মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করাই এখন অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই টেস্ট সিরিজের ফল যাই হোক, অ্যাশেজের আগে এই সমস্যার সমাধান না হলে বড় প্রতিপক্ষের সামনে ভেঙে পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ফুটবলের চেয়েও বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কি হামজার কাছে
আমরাই উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এসেছি: সাদমান