ইরান-ইসরায়েল শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র

  • শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেহবাজের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা মার্কো রুবিওর
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৫, ০১:১৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক ফোনালাপে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার রুবিও ও শেহবাজের মধ্যে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়। আলোচনায় দুই নেতা ইসরায়েল-ইরান সংঘাত থামাতে একযোগে কাজ করার গুরুত্বের কথা বলেন।

পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ এই ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সাহসী ও ফলপ্রসূ নেতৃত্বের’ প্রশংসা করেন, যিনি কয়েক দিন আগেই ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর দেশ সবসময় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। রুবিওও ইসলামাবাদের এমন কূটনৈতিক প্রয়াসের প্রশংসা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এই আলোচনার পেছনে একাধিক প্রাসঙ্গিক বিষয় রয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কোনো দূতাবাস না থাকায় ওয়াশিংটনে পাকিস্তানি দূতাবাসের একটি শাখা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের স্বার্থ রক্ষা করে আসছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগে পাকিস্তান কার্যত ‘পিছনের দরজা’ হিসেবে কাজ করে থাকে।

এই আলোচনা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে ১৩ জুন থেকে। ওই দিন ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালায়, যার জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে পরিপূর্ণ শান্তি এখনো আসেনি, বরং আঞ্চলিক অস্থিরতা থেকেই যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চলমান এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হয়। এরপর সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন এবং সর্বশেষ ইরান—পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামরিক উত্তেজনা।

যুক্তরাষ্ট্র এই পরিপ্রেক্ষিতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ওপর জোর দিয়েছে। মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে পারবে না’—এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান দৃঢ়।

অন্যদিকে পাকিস্তান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ চলতি মাসেই ঘোষণা দেয়, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে চার দিনের যুদ্ধ থামাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকার জন্য তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানকে পাশে রেখে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টায় রয়েছে, যার মূলে রয়েছে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্য, তবে বাস্তবতা এখনো সংকটময়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত