চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি কোম্পানির সম্পৃক্ততা, রাখাইনে মানবিক করিডরের উদ্যোগসহ বিভিন্ন দাবিতে ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোড মার্চ শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে এই রোড মার্চের উদ্বোধন হয়। এর আগে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা মিছিল নিয়ে রোড মার্চে অংশ নিতে সমবেত হন। তাদের অধিকাংশের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার।
রোড মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সদস্যরা বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। রোড মার্চের চারটি প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে : নিউমুরিং টার্মিনালসহ চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা, রাখাইনে করিডর স্থাপনের উদ্যোগ বাতিল, স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল এবং মার্কিন ও ভারতসহ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে সব অসম চুক্তি বাতিল ও জনসমক্ষে প্রকাশ।
রোড মার্চে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল : ‘অন্তর্বর্তী সরকার, সাম্রাজ্যবাদের পাহারাদার’, ‘বন্দর-করিডর বিদেশিদের দেব না’, ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব অসম চুক্তি বাতিল করো’, ‘মার্কিন-ভারতসহ সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, ‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে দেওয়া চলবে না’, ‘মার্কিন কোম্পানি স্টারলিংকের চুক্তি বাতিল করো’।
উদ্বোধনী সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আমরা মনে করি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের আকাক্সক্ষা গণতন্ত্রের আকাক্সক্ষা। এটি সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আকাক্সক্ষা। বিভিন্ন আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া শহীদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন দীর্ঘদিনের।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি, বন্দর ইজারা ও রাষ্ট্রবিরোধী করিডরের পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। আগামীকালের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা না হলেও, সরকার এই দায়িত্ব পালন না করলে, আগামীকালের সমাবেশে ঘোষণাপত্র পাঠের সঙ্গে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
উদ্বোধনী সমাবেশে অংশ নেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, গণমুক্তি আন্দোলনের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, তেল গ্যাস খনিজসম্পদ রক্ষা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এম এম আকাশ, গণমঞ্চের মাসুদ খান, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক নেতা কামাল হোসেন, বাসদ মার্ক্সবাদের প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট লিগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ প্রমুখ।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তারা উপস্থিত হতে পারেননি, তবে তারা এ আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, বাম ছাত্র সংগঠন ও নারী সংগঠনও এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
আয়োজকরা জানান, রোড মার্চের অংশ হিসেবে শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও কুমিল্লার টাউন হল মাঠে বিকেলে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শনিবার ফেনী জেলা শহীদ মিনারে গণমিছিল এবং বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম বন্দরে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
