ক্লাব বিশ্বকাপে খেলেই নতুন ফুটবলার কেনার টাকা উঠে গেছে সিটি ও চেলসির

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ১০:৫৪ এএম

খালি গ্যালারি, উত্তপ্ত আবহাওয়া আর কর্দমাক্ত মাঠ। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে এসবই। কিন্তু এক চিলতে আলোও আছে, আর সেটা অর্থের। বিশ্বকাপটা মাঠে যতই সমালোচিত হোক, ম্যানচেস্টার সিটি আর চেলসির জন্য হয়ে উঠেছে বিশাল অর্থময় উৎসব।

এই টুর্নামেন্ট থেকেই তাদের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফারের বড় একটা অংশ ইতোমধ্যেই উঠে গেছে। কিছু কিছু চুক্তির মূল্য তো একদমই শোধ হয়ে গেছে।

টুর্নামেন্ট জিতলে ম্যানচেস্টার সিটির পকেটে ঢুকবে প্রায় ৯২ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৩৫০ কোটি টাকা)। চেলসি পাবে কিছুটা কম। শুধুমাত্র অংশগ্রহণ করলেই ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো পাচ্ছে ২৭.৯ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত। চেলসি সামান্য কম পেয়েছে, কারণ তাদের বাণিজ্যিক মান ও পারফরম্যান্স সূচকে কিছুটা কম পয়েন্ট।

কীভাবে হিসাব হয়?

ম্যানসিটি অংশগ্রহণ করেই পেয়েই গেছে ২৭.৯ মিলিয়ন পাউন্ড। গ্রুপ পর্বে প্রতি ম্যাচ জয়প্রতি ১.৫ মিলিয়ন। আর ড্র করলে সেটা সাড়ে ৭ লাখ পাউন্ড। শেষ ষোলোর ম্যাচ জিতলে তাদের পকেটে ঢুকবে সাড়ে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ৯.৬ মিলিয়ন, সেমিফাইনালে ১৫.৩ মিলিয়ন, রানার্স-আপ হলে ২১.৯ মিলিয়ন আর চ্যাম্পিয়ন ২৯.২ মিলিয়ন পাউন্ড আয় হবে তাদের। পুরো টুর্নামেন্টে পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ফিফার ইতিহাসে রেকর্ড।

কে কত আয় করেছে এখন পর্যন্ত?

ম্যানসিটি গ্রুপে সব ম্যাচ জিতে আয় করেছে প্রায় £৩৭.৮ মিলিয়ন। চেলসি হেরেছে ফ্লামেঙ্গোর কাছে, তাই তারা প্রায় দেড় মিলিয়ন কম পেয়েছে।

এই অর্থে কী কী কেনা হয়ে গেছে?

চেলসি লিয়াম ডেলাপকে ইপ্সউইচ থেকে কিনেছে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে। বিশ্বকাপে তার করা গোলে জয় এসেছে, আর এই অর্থে তার ট্রান্সফার প্রায় শোধ হয়ে গেছে। এস্তেভাও উইলিয়ামের ট্রান্সফার ফিও ছিল ২৯ মিলিয়ন—সেটাও উঠেই গেছে প্রায়।

ম্যানসিটি রায়ান ইত-নুরিকে ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডে, পুরো টাকাই উঠে গেছে, উপরন্তু অতিরিক্ত ৭ মিলিয়ন পাউন্ড রয়ে গেছে! রায়ান চেরকি ৩০.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে। যদি সেমিফাইনালে জেতে, তাহলে সেটা পুষিয়ে যাবে। তিজান রেইজন্ডার্স ৪৬.৩ মিলিয়ন পাউন্ডে, টুর্নামেন্ট জিতলে তারও দুই-তৃতীয়াংশ শোধ হয়ে যাবে।

অন্য প্রতিযোগিতার তুলনায় কেমন?

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবশেষ আসরে পিএসজি ৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে, ম্যাচ খেলেছে ১৭টি। প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন সিটি গত বছর পেয়েছিল ১৭৫.৯ মিলিয়ন পাউন্ড, তবে ম্যাচ ৩৮টি। এফএ কাপ জিতে ক্রিস্টাল প্যালেস পেয়েছে মাত্র ৩.৯ মিলিয়ন! অর্থাৎ, শুধুমাত্র সাত ম্যাচ খেলে এই আয়—যা তুলনামূলকভাবে অবিশ্বাস্য।

পেপ গার্দিওলা বলেছেন, ‘আমরা এই টাকার যোগ্য নই।’ তার মতে এই বোনাস ক্লাবের, খেলোয়াড়দের নয়—কারণ তারা এ মৌসুমে কিছুই জেতেনি।

চেলসি কোচ এনজো মারোসকা অবশ্য বলছেন, বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই, শুধু প্রত্যাশা—মাঠে ভালো খেললেই হবে।

ইউরোপিয়ান লিগের প্রধান ক্লাউডিয়াস শ্যাফার বলেছেন, এই টুর্নামেন্ট ঘরোয়া লিগে বড় আর্থিক বৈষম্য সৃষ্টি করছে। সালজবুর্গ গ্রুপেই বাদ পড়েও আয় করেছে £১১.৫ মিলিয়ন, যা অস্ট্রিয়ান লিগের অনেক ক্লাবের পুরো মৌসুমের বাজেটের সমান! এমনকি অকল্যান্ড সিটি, যাদের খেলোয়াড়েরা প্রায় অপেশাদার, তারাও টাকার হিসাব নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে।

এই টুর্নামেন্টে যেন খেলার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে অর্থের গল্প। ক্লাব বিশ্বকাপ মানেই এখন আর কেবল শিরোপার লড়াই নয়—এটা হয়ে গেছে একটি হিসাবের টুর্নামেন্ট, যেখানে এক গোল মানে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত