চাঁদে মানুষ পাঠানোর পথে আরও এগোল চীন

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়েছে চীন। দেশটি তাদের ‘মেংঝৌ’ নামে পরিচিত মানববাহী নভোযানের জরুরি অবতরণ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মান্দারিন ভাষায় ‘মেংঝৌ’ অর্থ ‘স্বপ্নের জাহাজ’। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে চীন তিনজন নভোচারীকে চাঁদের মাটিতে নামানোর পরিকল্পনা করেছে। এ লক্ষ্যে গত ১৭ জুন মেংঝৌ নভোযানের জরুরি অবতরণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালানো হয়। চীনের মহাকাশ সংস্থা সিএমএসএ জানিয়েছে, এটি গত ২৭ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো চালানো ‘জিরো অল্টিটিউড’ বা ভূমি থেকে সম্পন্ন হওয়া এই ধরনের পরীক্ষা। এর আগে ১৯৯৮ সালে শেনঝৌ নভোযানে এ পরীক্ষা হয়েছিল।

মেংঝৌ নভোযানের সঙ্গে একটি লঞ্চ এস্কেপ টাওয়ার সংযুক্ত করা হয়েছে, যা কঠিন জ্বালানিচালিত শক্তিশালী রকেট মটরের সাহায্যে কাজ করে। উৎক্ষেপণের সময় কোনো বিপদ বা প্রযুক্তিগত সমস্যা ধরা পড়লে; মাত্র দুই সেকেন্ডের মধ্যে নভোযানের ক্যাপসুলকে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন করে, নিরাপদে অবতরণ নিশ্চিত করতে পারে এ ব্যবস্থা। পরীক্ষার সময় নভোযান ও এস্কেপ টাওয়ার একত্রে ভূমি থেকে উড়ে নির্ধারিত উচ্চতায় পৌঁছায় প্রায় ২০ সেকেন্ডের মধ্যে। এরপর নভোযানের ক্যাপসুল আলাদা হয়ে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে মাটিতে অবতরণ করে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে।

চীনা মহাকাশ সংস্থাটি জানিয়েছে, আগের শেনঝৌ নভোযানে এস্কেপ ব্যবস্থা মূলত রকেটের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এবার মেংঝৌর ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণভাবে নভোযানের ভেতরেই সংহত করা হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার মান আরও উন্নত হয়েছে। চাঁদে মানুষ পাঠাতে চীনের প্রয়োজন আরও শক্তিশালী রকেট। বর্তমানে ব্যবহৃত ‘লং মার্চ ৫’ রকেট ২৫ টন পর্যন্ত উপকরণ পৃথিবীর নিম্ন-কক্ষপথে বহনে সক্ষম হলেও, মানব নভোচারীসহ চাঁদে পৌঁছানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়। এজন্যই তৈরি করা হচ্ছে উন্নততর ‘লং মার্চ ১০’ রকেট। যার প্রথম সংস্করণ ‘লং মার্চ ১০ এ’-২০২৬ সালে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই রকেটের দুটি বুস্টার বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এটি ১৪ টন ওজনের নভোযান বা সাতজন পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে নিম্ন-কক্ষপথে যেতে পারবে। এটি আংশিক পুনর্ব্যবহারযোগ্যও। পূর্ণাঙ্গ ‘লং মার্চ ১০’ রকেট ৭০ টন পর্যন্ত বহন করতে পারবে নিম্ন-কক্ষপথে এবং ২৭ টন পর্যন্ত চাঁদের কক্ষপথে বা ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন কক্ষপথে।

চীনের মহাকাশ অভিযান কর্র্তৃপক্ষ চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (সিএনএসএ) অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে তিনবার ‘লং মার্চ ১০’ উৎক্ষেপণ করা হবে। এরপর ২০৩০ সালে চাঁদের অবতরণযান ‘লানইয়ু’ এবং মানববাহী নভোযান ‘মেংঝৌ’ পৃথকভাবে উৎক্ষেপণ করা হবে। চাঁদের কক্ষপথে গিয়ে এ দুটি যানের ডকিং বা সংযোগ সম্পন্ন হবে, এরপর তিনজন নভোচারী চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত