পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মির আলী এলাকায় চালানো এক আত্মঘাতী হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর ১৩ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী ভারতকে দায়ী করেছে পাকিস্তান। তবে ভারত এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
গতকাল শনিবার সকালের দিকে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি দিয়ে সেনাবাহিনীর কনভয় লক্ষ্য করে চালানো হয় আত্মঘাতী হামলা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআরের তথ্যমতে, কনভয়ের সামনে থাকা বাহিনী গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারী গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৩ জন সেনা নিহত হন। আহত হন তিনজন সাধারণ নাগরিক, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু ও এক নারী।
হামলার দায় পাকিস্তান চাপিয়েছে ভারতের ওপর। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, এই হামলা ছিল ‘ভারতীয় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার’ অংশ এবং এতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে ভারত-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-খারিজ’।
ঘটনার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী এলাকাজুড়ে অভিযানে নামে এবং এ সময় সন্দেহভাজন ১৪ জন খারিজি জঙ্গি নিহত হয়। সেনাবাহিনী দাবি করেছে, এর মাধ্যমে পুরো এলাকা পুনর্নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং জঙ্গিদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আজ রবিবার পেশোয়ার কর্পস সদর দপ্তর পরিদর্শন করে বলেন, ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। যারা এই বর্বর হামলায় যুক্ত, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেবল সেনাবাহিনীর নয়, গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পৃথক বিবৃতিতে আত্মঘাতী হামলার নিন্দা জানান। প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির গর্ব। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলতেই থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেন, ‘জাতি এই কাপুরুষোচিত হামলায় শহীদদের স্যালুট জানায় এবং তাদের রক্ত বৃথা যাবে না।’
অন্যদিকে ভারত পাকিস্তানের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ওয়াজিরিস্তানে সংঘটিত হামলার জন্য ভারতকে দায়ী করার কোনো ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগান সীমান্তঘেঁষা অস্থিতিশীল এই এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, কারণ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। এর ফলে শুধু অঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈদেশিক কূটনীতি ও প্রতিবেশী সম্পর্কেও বাড়ছে চাপ।
পারমাণবিক উৎপাদনে শিগগির ফিরতে পারে ইরান
খুঁটির জোর যাই হোক, ছাড় নয়: জামায়াত আমির