বন্দরে যানজট, কাস্টমস প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না থাকা ও অপ্রতুল অবকাঠামোর কারণে দেশের আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
গবেষকরা বলছন, পণ্য ও সেবার সরবরাহ ব্যবস্থায় (লজিস্টিক পলিসি) ২৫ শতাংশ ব্যয় হ্রাস করা গেলে ২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। একই সাথে পরিবহন ব্যয় ১ শতাংশ হ্রাস করা গেলে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ জন্য জাতীয় লজিস্টিক নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য ‘সেক্টর ডেভেলপমেন্ট রোডম্যাপ মাষ্টারপ্ল্যান’ একান্ত আবশ্যক।
রোববার (২৯ জুন) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে লজিস্টিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক সেমিনারে তারা এমন মত দিয়েছেন।
ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, ‘লজিস্টিক পলিসির কার্যকর বাস্তবায়নে সমন্বিত মাষ্টারপ্ল্যান অপরিহার্য’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়) ড. শেখ মইনউদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন—বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর চেয়ারপার্সন আবুল কাসেম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাশরুর রিয়াজ।
ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯২ ভাগ হয়ে থাকে, যা জিডিপির প্রায় ৩০শতাংশ। এ অবস্থায় উল্লেখিত বন্দরসহ দেশের সকল রেল, স্থল, নৌ, সামুদ্রিক ও বিমান বন্দরগুলোসহ সার্বিক লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবী। এক্ষেত্রে বিলম্ব হলে আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ক্রামগত পিছিয়ে পড়ব।
সেই সাথে অ্যাসআইকোডা এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল ইউন্ডো অতিদ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোরারোপ করেন তিনি।
আইসিডি উন্নয়নে বেসরকারিখাতকে সম্পৃক্তকরনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
ড. শেখ মইনউদ্দিন বলেন, এলডিসি পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়াতে আমাদের সড়ক, রেল, নৌ, বিমান ও সমুদ্র বন্দর এবং ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ের সমন্বয়ে একটি বহুমাত্রিক পরিবহন ইকোসিস্টেম প্রয়োজন, অন্যথায় আমাদের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
