মুন্সীগঞ্জ সদরে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লালাকে কেন্দ্র গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রাইভেটকারের যুবকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এএসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে রিভলবার, গুলি, গুলির খোসা ও ইয়াবাসহ প্রাইভেটকারে থাকা যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তার নাম সাব্বির হোসেন দীপু (২৯)।
আজ রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে জেলা সদরের রামপাল কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ সময় প্রাইভেটকারে থাকা অপর ২ যুবক পালিয়ে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত যুবক দীপু নারায়ণগঞ্জের ফুতল্লা উপজেলার মাজদাইর এলাকার হাজী আবুল কালাম তালুকদারের ছেলে। পালিয়ে যাওয়া দুই যুবক হচ্ছে মুকুল (৩৩) ও শাহাদাত হোসেন (৩৪)। আহত অবস্থায় সদরের হাতিমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই এমদাদুল হক (৪২), কনস্টেবল সাজেদুর রহমান (২৬) ও কনস্টেবল রবিউল আলম চৌধুরীকে (৪৯) মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে থেকে কেন্দ্রের সামনের সড়কে যানজট নিরসনে কাজ করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় কেন্দ্রের সামনের সড়ক দিয়ে একটি প্রাইভেটকার জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দীঘিরপাড় যাচ্ছিল। পথে একটি মোটরসাইকেল প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকার চালক সাব্বির ক্ষিপ্ত হয়ে মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে রিভলবার বের করে মোটরসাইকেল চালককে গুলি করার হুমকি দিলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যায়। সেসময় পুলিশ সদস্যরা প্রাইভেটকার চালককে ধরতে আসেন। পরে পুলিশ এবং প্রাইভেটকার চালকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণের শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন সাব্বির হোসেন দীপুকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেন।
আহত পুলিশের এএসআই এমদাদুল হক বলেন, আমরা যখন যুবককে জিজ্ঞাসা করতে সামনে যাই তখন তিনি আমাদের লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। আমরা প্রাণে রক্ষা পাই। এর মধ্যে এক পুলিশ সদস্য পানিতে পড়ে গিয়ে আহত হয়। তবে আমাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের যাতে ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি এম সাইফুল আলম জানান, প্রাইভেটকারের যুবককে একটি ২২ বোরের রিভলবার, ৩ রাউন্ড গুলির খোসা, ২ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যান। তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি থানা হেফাজতে রয়েছে।
ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাব্বির হোসেন দীপু একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একাধিক অস্ত্র ও মাদকের মামলা রয়েছে। অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি মানবে কিনা সন্দেহ ইরানের
এনবিআরের শীর্ষ ৬ কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক