জুলাই ঘোষণাপত্র জারি না করলে বসে থাকব না : নাহিদ

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে অন্তর্র্বর্তী সরকার দুই দুইবার সময় দিয়েও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ বিষয়ে কোথায় বাধা রয়েছে সরকার তাও স্পষ্ট করেনি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। জুলাই  ঘোষণাপত্র নিয়ে সরকার যদি কোনো উদ্যোগই না নেয়, তবে ছাত্র-জনতা বসে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপি নেতা।

গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

 ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, জুলাই ঘোষণাপত্র হচ্ছে জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শহীদ, আহত ও  নেতৃত্বের অবদান, রাজনৈতিক সুরক্ষা এবং জুলাইয়ের আকাক্সক্ষার সংজ্ঞায়ন নিশ্চিতে একটি জাতীয় দলিল যা পরবর্তী সময়ে আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি পাবে। ৩১ ডিসেম্বর ছাত্র নেতৃত্ব জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারিভাবে ঘোষণাপত্র দেওয়ার কথা ছাত্র নেতৃত্ব তাদের উদ্যোগ  থেকে সরে আসে।

সরকার বিভিন্ন দল/পক্ষ থেকে খসড়া ঘোষণাপত্র চেয়েছিল। সেই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একটা খসড়া ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়েছিল। সবগুলো ডকুমেন্ট মিলিয়ে একটা কমন দলিল তৈরি করার কথা ছিল যা সব পক্ষ একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করবে।

কিন্তু সরকার দুই দুইবার সময় দিয়েও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। কেন করেনি, কোথায় বাধা পেল তাও স্পষ্ট করেনি।

সরকারের কাছে অবশ্যই আমরা জবাবদিহি চাই এবং আমরা চাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এ ঘোষণাপত্র জারি করা হোক যা পরে সংবিধানে যুক্ত করার কমিটমেন্ট থাকবে।

কিন্তু সরকার যদি কোনো উদ্যোগই না নেয় আমরা বসে থাকব না। আমাদের বক্তব্য, আমাদের ইশতেহার অবশ্যই আমরা প্রকাশ করব। অন্য সব পক্ষকেও বলব, আপনাদের ইশতেহার তৈরি করুন। সবাই মিলে আমরা দলিল তৈরি করতে পারলে সরকার সেটা গ্রহণ করতে বাধ্য। জুলাই ঘোষণাপত্র শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেই পাঠ করা হবে।

জুলাই সনদে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের রূপরেখা থাকবে উল্লেখ করে তিনি স্ট্যাটাসে বলেন, সংবিধানের কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল হবে জুলাই সনদ যেখানে সব দল স্বাক্ষর করবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি এখনো ঠিক হয়নি। গণভোট, গণপরিষদ অথবা সংসদে সংশোধনীর মাধ্যমে এই সনদ কার্যকর হবে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাধ্য থাকবে।

জুলাই-আগস্টে জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ দুটিই দেওয়া সম্ভব  উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোনো একটি পক্ষ যদি দলীয় স্বার্থে ঐকমত্য প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, তাহলে সরকারের উচিত ভয় না করে অন্য পক্ষ ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করা। জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র দিতে না পারলে সরকারের এখতিয়ার থাকবে না জুলাই উদযাপনে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার।

আমরা দৃঢ়ভাবে চাই, ৫ আগস্ট তথা ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে জুলাই  ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ রচিত হোক। সব পক্ষ সব ধরনের ছাড় দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করুক।

আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) থেকে আমাদের পদযাত্রা। ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রায়’ আপনাদের স্বাগতম। পথে-প্রান্তরে কথা হবে আপনাদের সাথে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত