পদ পেয়ে টাকার মালা গলায় ঝুলিয়ে আনন্দ মিছিল করা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সেই নেতা মো. রাসেলের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগরের আকবরশাহ থানাধীন ৯নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে কেন সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত জবাব স্বশরীরের উপস্থিত হয়ে জমাদানের নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
এর আগে গত ২৮ জুন শুক্রবার নগরের আকবরশাহ থানার উত্তর পাহাড়তলীর হারবাতলীতে গলায় টাকার মালা ঝুলিয়ে অনুসারীদের নিয়ে আনন্দ মিছিল করেন রাসেল। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। রাসেল নিজেও তার ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, রাসেলকে ঘিরে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি স্লোগান দিচ্ছেন। এরই মধ্যে একজন ৫০০ টাকার কয়েকটি নোট গেঁথে তৈরি করা একটি মালা রাসেলকে পরিয়ে দেন। এরপর সেটি পরেই আনন্দ মিছিল করেন রাসেল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড কমিটিতে পদ পাওয়া রাসেল ২০২০ সালের ২০ জুলাই আকবর শাহ থানা-পুলিশের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ অন্তত দুটি মামলা রয়েছে। গত ২৭ জুন রাতে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে ২১ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৪৮ জনকে সদস্য করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এই কমিটি অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগরের আওতাধীন ১৫ থানার পূর্ণাঙ্গ ও ১২টি ওয়ার্ডের আংশিক আহ্বায়ক কমিটিও অনুমোদন করা হয়।
