থাই প্রধানমন্ত্রী সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৭ এএম

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে নৈতিক আচরণ লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সাংবিধানিক আদালত পেতাংতার্নের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়। আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, আদালত সর্বসম্মতিক্রমে অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতংতার্নের দায়িত্ব পালন স্থগিত করা হলো।

সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩৬ জন সিনেটরের একটি দল পেতাংতার্নের বিরুদ্ধে নৈতিক মানদণ্ড লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালতে অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়। উভয়পক্ষই ফাঁস হওয়া ফোনালাপের সত্যতা স্বীকার করেছে। চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতাংতার্নের দায়িত্ব স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয় সাংবিধানিক আদালতের পক্ষ থেকে। আপাতত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী। আর পেতাংতার্ন মন্ত্রিসভায় রদবদলের পর সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন।

সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনের চেষ্টায় গত ১৫ জুন থাই প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রা, কম্বোডিয়ার রাজনীতিবিদ হুন সেনকে ফোন করেন। সেখানেই তিনি হুন সেনকে ‘আংকেল’ বলে সম্বোধন করেন এবং একজন থাই সেনা কর্মকর্তাকে ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। সামরিক বিষয়ে স্পর্শকাতর এমন মন্তব্য থাইল্যান্ডে সহজভাবে নেওয়া হয়নি। ফাঁস হওয়া ফোনালাপ দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে এবং তার নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে বিপদে ফেলে দেয়। গত শনিবার রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামেন এবং পেতাংতার্নের পদত্যাগের দাবি জানান।

যদিও পেতংতার্ন বলেছেন, ফোনালাপে তার মন্তব্য ছিল কূটনৈতিক কৌশল। তিনি এর জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে উপ-প্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুয়াংরুয়াংকিত অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। সরকার পক্ষের দাবি, প্রশাসনের কার্যক্রম এতে ব্যাহত হবে না। পেতংতার্ন যদিও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরখাস্ত হয়েছেন, তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় রদবদলের ফলে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় থাকবেন। মামলার জবাব দিতে তার হাতে ১৫ দিন সময় আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত