বরগুনার পাশাপাশি রাজধানীতেও ডেঙ্গুতে রোগী ও মৃত্যু বাড়ছে। গত এক মাসে রাজধানীতে রোগী বেড়েছে প্রায় তিনগুণ ও মৃত্যু আড়াইগুণ। অন্যদিকে, বরগুনায় রোগী বেড়েছে তিন ও মৃত্যু চারগুণ। এই মুহূর্তে এ দুই জায়গায় রোগটির সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
এমন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪১৬ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সংখ্যা বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম সর্বোচ্চ রোগী ছিল গত মাসের শেষ দিন ৩০ জুন। সেদিন ৪২৯ জন রোগী ভর্তি হয়।
এমনকি গতকাল দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। মোট রোগী দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৯৮ জনে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২১ জন বা ২২ শতাংশ রোগী রাজধানীর এবং ২ হাজার ৯৩২ বা ২৬ শতাংশ বরগুনার। অর্থাৎ মোট রোগীর ৪৮ শতাংশ এ দুই জায়গায়। অবশিষ্ট ৫২ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়েছে দেশের ৬০ জেলায়। এখনো দুটি জেলা গোপালগঞ্জ ও জয়পুরহাটে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ও বরগুনায় সমান হারে রোগী বাড়ছে। মে মাসে রাজধানীতে ৪০১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয় ও মারা যায় তিনজন। জুনে রোগীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১১৩ জনে ও মৃত্যু আড়াইগুণ বেড়ে সাতজনে পৌঁছায়।
একইভাবে মে মাসে বরগুনায় রোগী ছিল ৬৭৯ জন ও মারা যায় একজন। জুনে রোগী প্রায় তিনগুণ বেড়ে হয় ১ হাজার ৮৩২ জন ও মৃত্যু চারগুণ বেড়ে চারজনের দাঁড়ায়।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ বা ১৬৫ জনই বরিশাল বিভাগের। বাকি ৬০ শতাংশ বা ২৫১ জন ভর্তি হয়েছে বাকি পাঁচ বিভাগে। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৫১, ঢাকা বিভাগে ৫৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩, খুলনা বিভাগে ১৮ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন ভর্তি হয়।
দিনের মোট রোগীর ৪৫ শতাংশ বা ১৮৭ জনই ভর্তি হয়েছে দুই জেলায়। এর মধ্যে ঢাকায় ৯৪ জন বা ২৩ শতাংশ ও বরগুনায় ৯৩ জন বা ২২ শতাংশ। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪২ জন বা ১০ শতাংশ ও বরিশালে ৩৪ জন বা ৮ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় একজন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। তিনি ৩৫ বছর বয়সী একজন পুরুষ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ নিয়ে এ মাসের গত দুদিনে দুজন ও এ বছর মোট ৪৪ জন মারা গেল।
এ বছর সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ জন। তারা সবাই এখানকার হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এরপর বরিশাল বিভাগে ১১, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে ১ জন করে মারা গেছে।
এ বছর মোট ডেঙ্গু রোগীর ৫৯ শতাংশ পুরুষ ও ৪১ শতাংশ নারী এবং মোট মৃত্যুর ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ ও ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।
২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য সংরক্ষণ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। ডেঙ্গু নিয়ে ২০২২ সালে দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয় ও মারা যায় ৫৭৫ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর এ সংখ্যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর মৃতের সংখ্যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ বছর এখন পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৯৮ ও মারা গেছে ৪৪ জন।
