নিজেদের মাটিতে কনকাকাফ গোল্ড কাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মেক্সিকোর বিপক্ষে ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে হেরে সে স্বপ্নে ছায়া পড়ে গেল। বড় প্রশ্নটা উঠেছে এখানেই—পচেত্তিনোর নেতৃত্বে কি সত্যিই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, নাকি ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই দলে ভর করছে অনিশ্চয়তা?
আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে এটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম ম্যাচ। শুরু থেকেই দলের পারফরম্যান্স ছিল ওঠানামা করা, আর র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৩০ দলের বিপক্ষে সব ম্যাচেই হেরেছে তারা। প্যানামা, কানাডা, তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড—সবগুলো হারের পর এবার এল মেক্সিকোর কাছে শিরোপা হারানোর ধাক্কা।
তবুও আশার জায়গা আছে। গোল্ড কাপে পুরো ৪০ দিন একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন খেলোয়াড়রা, যা ছিল একটি গঠনমূলক অভিজ্ঞতা। কোচ পচেত্তিনোর কথায়, ‘খেলোয়াড়দের কান্না আমাকে ভালো লেগেছে। এর মানে, তারা উপলব্ধি করছে জাতীয় দলের গুরুত্ব। এটাই ফুটবলের আসল রূপ।’
তবে ফাইনালে একটি পেনাল্টির দাবি না মেলায় ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। মাঠে মেক্সিকো সমর্থকের আধিক্যও অনুভব করেছেন খেলোয়াড়েরা। পচেত্তিনোর অভিযোগ, ‘৭০ হাজার দর্শকের মধ্যে বেশিরভাগই মেক্সিকান। এটি আমাদের মনোবলে প্রভাব ফেলেছে। যদি সমর্থন আমাদের পক্ষে থাকত, ফল ভিন্ন হতে পারত।’
এই দলে ছিলেন না ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, ইউনুস মুসাহ, টিমোথি উইয়া, ওয়েস্টন ম্যাককেনি, ফোলারিন বালোগুনের মতো তারকারা। ক্লাব বিশ্বকাপ, ইনজুরি ও ক্লান্তি এড়িয়ে দিয়েছে এদের। যার ফলে পচেত্তিনো গড়েছেন একটি বিকল্প দল—যারা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে আশার আলো দেখিয়েছে।
রিয়াল সল্ট লেকের ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার দিয়েগো লুনা দলে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন, বিশেষ করে কোস্টা রিকার বিপক্ষে টাইব্রেকারে। মিডফিল্ডার জ্যাক ম্যাকগ্লিন, লেভারকুজেনের নজরে থাকা মালিক টিলম্যান কিংবা সেন্টার ব্যাক ক্রিস রিচার্ডস—সবাই নিজেদের প্রমাণ করেছেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই পারফরম্যান্স কি যথেষ্ট? বিশ্বকাপের আগে কি এত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় আছে?
২০২৬ বিশ্বকাপে আমেরিকাই অন্যতম আয়োজক। ফলে শুধু দল নয়, পুরো জাতির কাছে প্রত্যাশার চাপ। গোল্ড কাপ ছিল এক রকম রিহার্সাল—দলে কেমন সংহতি, মাঠে কেমন সমর্থন, সেটাও ছিল একটা বড় পরীক্ষা।
যদিও স্টেডিয়াম ভর্তি না হওয়া, ক্লাব বিশ্বকাপের সঙ্গে সূচির সংঘাত, চড়া টিকিটের দাম—এসব কিছুই প্রশ্ন তুলেছে। তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ছিল হাউসফুল, যদিও অধিকাংশ দর্শকই ছিলেন প্রতিপক্ষের সমর্থক।
পচেত্তিনোর যুক্তরাষ্ট্র একটা সম্ভাবনাময় গল্প লিখতে পারছে ঠিকই, কিন্তু সময় গড়াচ্ছে। প্রস্তুতির জায়গা এখনও অসম্পূর্ণ। গোল্ড কাপ প্রাপ্তি যেমন আছে, তেমনি আছে চিন্তার জায়গাও।
শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর প্রশ্ন একটাই—এই দল কি আগামী জুনে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রস্তুত থাকবে? নাকি আবারও অস্থিরতা আর পরিবর্তনের ছোবলে হারিয়ে যাবে সম্ভাবনা?
হ্যাটট্রিকের পথে আরেক ধাপ এগোলেন আলকারাজ, সাবালেঙ্কার দাপুটে অগ্রযাত্রা
মধ্যরাতে সংবর্ধনা, সকালে ভুটান গেলেন ঋতুপর্ণা-মনিকা