বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব আব্দুর রহমান খানসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিটিএমএ'র প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল, সাবেক প্রেসিডেন্ট মতিন চৌধুরী, তপন চৌধুরী, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী (পারভেজ), সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মঞ্জুরুল হক, ভাইস-প্রেসিডেন্ট মো. শামীম ইসলামসহ বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিটিএমএর পক্ষ থেকে সোমবার (৭ জুলাই) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তুলা আমদানিতে ২ শতাংশ এআইটি (অগ্রিম কর) অবিলম্বে প্রত্যাহার, ১৫ শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স পুর্নবহাল এবং দেশীয় টেক্সাইল মিলে উৎপাদিত কটন সুতা এবং কৃত্রিম ও অন্যান্য আঁশের সংমিশ্রণে তৈরি সুতার উপর কেজি প্রতি সুনির্দিষ্ট কর ৫ টাকা অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অতি শ্রীঘ্রই অগ্রিম করের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করা হয়। এসময় ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বিপুল পরিমাণে আমদানিকৃত তুলা খালাসের জন্য চট্টগ্রামে বন্দরে অপেক্ষমান রয়েছে।
আলোচনার শুরুতে বিটিএমএর প্রতিনিধি দল প্রতিবেশী দেশ ভারতের টেক্সটাইল শিল্প কিভাবে তাদের সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা এবং সুযোগ সুবিধার বিষয় ও সেখানে তাদের স্থানীয় বাজারে তুলার অর্থাৎ ডাম্পিং মূল্যে আমাদের দেশে রপ্তানি বাড়ছে এবং এর ফলে দেশের টেক্সটাইল শিল্প কি ধরণের প্রতিকুল অবস্থা মোকাবিলা করছে তা নিয়ে বিস্তারিতভাবে অবগত করা হয়।
বিটিএমএ ব্যখ্যা অর্থ উপদেষ্টা ও এনবিআর চেয়ারম্যান গুরুত্ব অনুধাবন করেন। সংগঠনটি তুলার উপর ২ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপ করার ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন নেতিবাচক ফলাফল কি হতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এবং অগ্রিম কর চূড়ান্ত আয়কর মূল্যায়নের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে বিটিএমএ বলেছে, ২ শতাংশ অগ্রিম কর সমন্বয় করার প্রক্রিয়া একটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করবে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এটি হয়রানীর অন্যতম কারণ হবে।
সংগঠনটি দাবি করছে, দেশীয় টেক্সাইল মিলে উৎপাদিত কটন সুতা ও কৃত্রিম ও অন্যান্য আঁশের সংমিশ্রণে তৈরি সুতায় কাপড় দেশের নিম্ন শ্রেনী ও সাধারণ জনগোষ্ঠী ব্যবহার করে। কাপড় মূল্যে বৃদ্ধি তারা দেশীয় কাপড় ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে। সুতার উপর সুনির্দিষ্ট কর কেজি প্রতি ৫ টাকা অব্যাহতি প্রদান না করলে টেক্সটাইল স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্রমান্বয়ে রুগ্ন শিল্পে পরিণত হবে এবং তাছাড়া ব্যাংক, বীমা ইত্যাদি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটে পড়বে।
