পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধে ধস

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ০৭:৩৩ এএম

প্রবল স্রোতের কারণে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধের প্রায় ১৭০ মিটার অংশ পুনরায় নদীতে ধসে পড়েছে। গত সোমবার বিকেল থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। এ সময় নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ১৯টি স্থাপনা। আতঙ্কিত হয়ে নদীতীরের বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা নগদ অর্থ, টিন এবং খাদ্য সরবরাহ করছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু করেছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১০-১১ সালে পদ্মা সেতু থেকে জাজিরার মাঝিরঘাট হয়ে পূর্ব নাওডোবা আলমখার কান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে সেতু কর্র্তৃপক্ষ। এই বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ১১০ কোটি টাকা। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পদ্মার তীব্র স্রোতে জাজিরার পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধের ১৭০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। স্রোতের তীব্রতায় ১০টি বসতবাড়ি এবং ৯টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ধসে গেছে। মাঝিরঘাট বাজারসহ নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তিনটি গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের আতঙ্কে অন্তত ২৬টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

গত বছরের নভেম্বর এবং চলতি বছরের ৭ ও ৮ জুন বাঁধের দুটি স্থানে প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়েছিল। সেখানে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু মাস না পেরোতেই পূর্বের ২০০ মিটার অংশের পাশে নতুন করে ১৭০ মিটার বাঁধ ধসে গেছে।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় জানান, ১০টি বসতবাড়ি এবং ৯টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়রা অন্তত ২৬টি বসতবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থ, টিন এবং খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান বলেন, ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য আগামী বর্ষার আগে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত