জুলাই অভ্যুত্থান

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার আইসিসিতে চায় অ্যামনেস্টি

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫৭ এএম

বাংলাদেশে গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রোম সনদের ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি ঘটনার বিচার চায় মানবাধিকার সংগঠনটি। গত বুধবার বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংগঠনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানায়।

বিবিসির ওই প্রতিবেদনে একটি ফাঁস হওয়া অডিও বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, আন্দোলন দমনে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বুধবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ার ওই বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই ওই সময়ে সংঘটিত সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং সহিংসতায় অংশগ্রহণকারী ও যারা তা নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মৃত্যুদণ্ড না দিয়েই ন্যায্য বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্তর্বর্তী সরকারকে জোর দিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, যেন ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে রোম সংবিধির ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার বিষয়টি বিবেচনা করে, যা জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনেরও একটি সুপারিশ ছিল।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই বিক্ষোভে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই মারা গেছে বাংলাদেশি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত সামরিক রাইফেল ও শটগানের গুলিতে। আরও হাজার হাজার মানুষ গুরুতর, অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছে। গত বুধবার বিবিসি জানায়, ফাঁস হওয়া একটি অডিও টেপ যাচাই করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। চলতি বছরের মার্চে ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে বলেন, যেখানেই পাবে, গুলি করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত