জীবিকার তাগিদে মানুষ নিজ বাসস্থান থেকে দূরে বসবাস করে। যে যেখানেই থাকুক নিজের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার বিষয়ে ইসলাম দিয়েছে জোর তাগিদ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তা অটুট রাখে... তাদের জন্যই রয়েছে আখেরাতের শুভ পরিণাম।’ (সুরা রাদ ২১-২২)
অনেক সময় পারিবারিক কোন্দলে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। কেউ সমঝোতা করতে চাইলে অন্যজন এড়িয়ে চলে। এ সময় আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখাই হলো মূল কাজ। দুপক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা আত্মীয়তার বন্ধন নয়। কেউ সম্পর্ক ছিন্ন করলে তা পুনঃস্থাপন করাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী ওই ব্যক্তি নয়, যে বরাবর ব্যবহার করে। বরং প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী ওই ব্যক্তি, যার আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে তা পুনঃস্থাপন করে। (আবু দাউদ ১৬৯৭)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী কারিম (সা.)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আছে। আমি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমি তাদের উপকার করি, কিন্তু তারা আমার ক্ষতি করে। তারা আমার সঙ্গে মূর্খের আচরণ করে, কিন্তু আমি তা সহ্য করি। নবী কারিম (সা.) বলেন, যদি তোমার বক্তব্য সঠিক হয়, তবে তুমি যেন তাদের মুখে উত্তপ্ত ছাই পুরে দিচ্ছ। তোমার কারণে তাদের দুর্ভোগ আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সঙ্গে থাকবেন। (আদাবুল মুফরাদ ৫২)
হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি চায় যে, তার জীবিকা প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে। (আদাবুল মুফরাদ ৫৬)
দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জনে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায়ের গুরুত্ব অনেক। এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন থাকা কাম্য। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার তওফিক দান করুন।
