যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় আরও ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উপত্যকাটির মধ্যাঞ্চল দেইর আল-বালায় ১০ শিশুসহ নিহত হয়েছেন ১৫ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রতিবেদন বলছে, পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্টের জন্য লাইনে দাঁড়ানো লোকদের ওই হামলা হয়। এ হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯টিই শিশু। এদিকে, গাজায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্র এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা গোষ্ঠীর ত্রাণ নিতে গিয়ে গত ৬ সপ্তাহে অন্তত ৭৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) এ তথ্য জানিয়েছে। ও অবস্থায় ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সংস্থা জিএইচএফের জবাবদিহি চেয়েছে যুক্তরাজ্য।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ২৭ মে থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত আমাদের নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)-এর ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের আশপাশে, এবং ১৮৩ জন নিহত হয়েছেন অন্যান্য ত্রাণবিতরণ কেন্দ্রের আশপাশে। জিএইচএফ গাজায় মে মাসের শেষ দিকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করে। সংস্থাটি জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন ত্রাণ ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থায় কাজ করছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থায় হামাস ত্রাণ সরিয়ে নিচ্ছিল। ইসরায়েলি বাহিনী যেসব জায়গায় তৎপর সেই জায়গাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ করে আসছে জিএইচএফ। সেখানে ত্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করা শত শত ফিলিস্তিনির মৃত্যুর পর জাতিসংঘ জিএইচএফ-এর ত্রাণ বিতরণ পদ্ধতিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার নীতিমালার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছে। তবে জিএইচএফ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, জাতিসংঘ নিহতের যে পরিসংখ্যান দিয়েছে তা মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিপূর্ণ।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সহায়তা নিতে আসা পরিবারগুলোর সদস্যদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা একেবারেই অমানবিক। ইসরায়েলে এই আগ্রাসনকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও কৌশলগত হত্যাযজ্ঞ বলে অ্যাখায়িত করেছেন ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থার প্রধান ফিলিপ্পে লাজ্জারিনি। তিনি বলেছেন, উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের বর্বরতায় সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরা।
এদিকে, ফিলিস্তিনি অ্যাকটিভিস্ট মাহমুদ খলিল কারামুক্ত হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ তাকে মিথ্যা অভিযোগে কারারুদ্ধ করা হয়েছে, বিদ্বেষমূলকভাবে বিচার করা হয়েছে এবং ইহুদি-বিদ্বেষী হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার খলিলের আইনজীবীরা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে এই মামলা করেছেন।
