হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইটে বোমা থাকার আশঙ্কায় তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বিজি ৩৭৩ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার কথা ছিল। উড়োজাহাজটির বৈমানিক ছিলেন ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান। কিন্তু ফ্লাইট ছাড়ার আগে অজ্ঞাত একটি সূত্র থেকে বোমার হুমকির ফোন আসে। এরপরই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ বি এম রওশন কবীর দেশ রূপান্তরকে জানান, অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোনকলের মাধ্যমে ফ্লাইটে বোমা থাকার তথ্য দেওয়া হয়। ওই সময় ফ্লাইটটি উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। বোমা হুমকির খবর পাওয়ার পরপরই উড়োজাহাজের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বিমানবন্দরের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উড়োজাহাজে তল্লাশি শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর রাত ৯.২২ টায় ফ্লাইটটি নেপালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে।
গতকাল সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র স্কোয়াড্রন লিডার মো. মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, সব যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। বম্ব ডিসপোজাল টিম তল্লাশি চালিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ইউনিট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থা একযোগে কাজ করছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এটি একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট হওয়ায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা বা কী উদ্দেশে এই হুমকি দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। গত রাতে তল্লাশি শেষে উড়োজাহাজে কোনো বোমা বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। এটি একটি মিথ্যা কল ছিল।
বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ বি এম রওশন কবীর জানান, যাত্রীদের বোর্ডিং শুরু হয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষ হলেই ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হবে।
