বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, যতই সংস্কার বা পুনর্গঠন হউক না কেন মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও সহনশীলতা জাগ্রত না হলে মানবিক রাষ্ট্র বা সমাজ গড়া সম্ভব না। বিএনপি কখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজিকে প্রশ্রয় দেয় না।
তিনি আজ দুপুরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ‘আলোকিত হলুয়াঘাট: রুপকল্প’ র্শীষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন।
হালুয়াঘাট পৌর শহরের অগ্রযাত্রা কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল বৈঠকে হলুয়াঘাটের গণ্যমান্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যোগ দিয়ে হালুয়াঘাটের সার্বিক উন্নয়নে রুপকল্প ও অভিকল্প প্রণয়ণ ও বাস্তবায়নে তাদের অভিমত তুলে ধরেন।
বৈঠকে এমরান সালেহ প্রিন্স গতকাল ঢাকায় মিটফোর্ট হাসপাতালের সামনে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই নৃশংসতা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মানুষের মধ্যে মনুষত্ব্যবোধ না থাকে সে মানুষ নামের অমানুষ। অমরা যতই উন্নয়নের কথা বলি না কেনো, মানুষের মধ্যে মানবিকতা, মনুষত্ব্যবোধ, ভাতৃত্ববোধ ও মমত্ববোধ না থাকলে সেই উন্নয়ন শুধু কথামালা বা অবকাঠামোর মধ্যে থেকে যাবে। আলোকিত রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে মানুষকে মানুষ হিসেবেই গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তির দায় দল নেবে না।
দল সেই দায় নিতে পরে যা দল নির্দেশ দেয়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বিএনপির ডিকশনারিতে নাই।
এসব অনৈতিক কাজ বিএনপি প্রশ্রয় দেয় না, নিশ্চয়ই গত কয়েক মাসে তা প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি যদি আওয়ামি লীগের মতো অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দিত তাহলে বিএনপিকে দোষ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত ছিলো। বিএনপি তা করছে না।
এর পরেও যারা এসব বিষয়ে বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যই ভিন্ন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে দুই একটি দল ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ফয়দা নিতে তৎপর। যাতে নির্বাচন বিলম্বিত হয়। অসত্য কিছু দিয়ে রাজনৈতিক ফয়দা হাসিল করা যায় না। জনগণের ভেতর বিএনপির শেকড়। যারা ভবেন টোকা দিলে বিএনপি পড়ে যাবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।
গতকাল পুরাতন ঢাকায় সংগঠিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নাই। আমি ভিডিওতে দেখে স্তম্ভিত, লজ্জিত। যারা এই জঘন্য কাজ করেছে তারা কোনো দলের হতে পরে না। যিনি নিহত হয়েছেন, তিনিও যুব দলের কর্মী। যিনি হত্যাকারী তিনিও যুব দলের কর্মী। যুব দলের হোক বা না হোক, তিনি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি সবারই থাকতে হবে। দোষী যেই হোক তার কঠোর শাস্তি হতে হবে। এক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরও দায় আছে বলে মনে করি।
এ পর্যন্ত অনৈতিক কাজের জন্য বিএনপি যাদেরকে বহিস্কার করেছে তাদের কতজনকে আটক করা হয়েছে? বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিজেরা উদ্যোগী হয়ে সন্ত্রাসী দমনে কী কাজ করেছে, যাতে এসব দুষ্কৃতিকারীরা ভয় বা আতঙ্কে থাকবে?
অমরা গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এভাবে দেখতে চাই নাই। শক্তিশালী পুলিশিং ব্যবস্থা শান্তিপূর্ণ সমাজের জন্য একান্ত অপরিহার্য। সন্ত্রাসীরা যদি ভয় না পায়, আতঙ্কে না থাকে তবে সন্ত্রাসী কাজের বিস্তার ঘটবে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আমি মেনে নিতে পারছি না। বিষয়টিকে রাজনৈতিক কালার না দিয়ে সন্ত্রাস হিসেবেই দেখা উচিৎ। এসবের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানবিকতা সবার মধ্যে জাগ্রত হতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহবায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা সুশীল ঘাগড়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা বাবু বিশেশ্বর চৌহান, হালুয়াঘাট সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি মজিবর রহমান, কয়লা আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের মহাসচিব অশোক কুমার অপু, হালুয়াঘাট বিআরডিবির চেয়ারম্যন আবু হাসনাত বদরুল কবীর, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যন শাহ আফাজ উদ্দিনসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমাজের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
