চাঁদপুরে মসজিদের খতিব আনম নূর রহমান মাদানীকে কোপানোর ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন। শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
চাঁদপুর আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. শহীদুল্লাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে আহত খতিব আনম নূর রহমান মাদানী ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো বলে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আফনান তাকি। এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে তিনি বাদী হয়ে মডেল থানায় বিল্লালকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই বিচারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারের দাবিতে ঝড় ওঠে।
যদিও এই ঘটনায় গতকাল রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খতিবের মৃত্যু হয়েছে বলে গুজব ছড়ায় একটি গ্রুপ।
নৃশংস এই হামলার ঘটনায় শনিবার বিকালে জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা যুব আন্দোলন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শহরে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের প্রফেসর পাড়া এলাকায় মোল্লাবাড়ি মসজিদের খতিব মাওলানা আনম নূর রহমান মাদানীকে ধর্মীয় বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বিল্লাল হোসেন।
আহতদের ছেলে আফনান তাকি বলেন, আমার বাবা ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো আছে। আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।
এঘটনায় শহর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, চাঁদপুরে উগ্রবাদের কোনো ঠাঁই নেই। আলেম-উলামাদের ওপর হামলা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। যারা এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।
এসময় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, শহর জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট শাহাজান খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নতুন বাজার গিয়ে শেষ হয়।
