স্বেচ্ছাশ্রমে সেতু সংস্কারে নেমেছেন এলাকাবাসী

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

হাজারো মানুষের ভোগান্তি নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজেদের অর্থায়নে গাজীপুরের শ্রীপুরের বংশীঘাটা এলাকার একটি কাঠের সেতু সংস্কার করছেন এলাকাবাসী। এর আগেও এখানে তারা বাঁশের সাঁকো করেছিলেন। সেতু নির্মাণে নানাজনের কাছে দৌড়ঝাঁপ করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এলাকাবাসী কাঠের সেতুটি পোক্ত করে তৈরি করে নিচ্ছে। গত শুক্রবার এ কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতিদিন অন্তত কয়েক হাজার নারী-পুরুষ এ কাঠের সেতু দিয়ে চলাচল করেন। সেতুটি না থাকলে অন্তত তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হবে তাদের। সেতুটি পৌরসভার বেরাইদের চালা ও বহেরার চালা এলাকার সীমান্তবর্তী বংশীঘাটা এলাকায় অবস্থিত। সেতুর পশ্চিমপাশে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ও পূর্বপাশে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা এই সেতু দিয়ে এলাকার মানুষ চলাচল করছেন। সম্প্রতি সেতুটি একেবারে নড়বড়ে হয়ে পড়ে। ফলে ঝঁুঁকি নিয়ে তারা চলাচল করছিলেন। সেতুর দুপাশেই বিভিন্ন শিল্পকারখানা রয়েছে। এ সব কারখানায় নানা বয়সের শ্রমিক চাকরি করেন। তারাসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও এ সেতু দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন।

এলাকার পোশাকশ্রমিক মোছাম্মৎ আক্তারা বেগম বলেন, ‘দুপুরে লাঞ্চের এক ঘণ্টা বিরতি দেয়। এ সময়ে বাসায় গিয়ে খাবার খেয়ে আবার কাজে যোগ দিতে হয়। এ সেতু না থাকলে এ সময়ে কখনোই দুপুরে বাসায় গিয়ে খেয়ে আবার আসা যাবে না। তাই এ সেতু আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিছুদিন আগে বাঁশের সাঁকো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে এলাকাবাসী কাঠের সেতুটি তৈরি করেন। সম্প্রতি সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি পৌরসভা করে দিচ্ছে না। নিরুপায় এলাকাবাসী তাই নিজ অর্থে তা করে নিচ্ছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা কাইয়ূম সরকার বলেন, কাঠের সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নড়বড়ে এই সেতু থেকে বহু নারীশ্রমিক পানিতে পড়েছেন। স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থী এ পথে চলাচল করেন। তাই সবাই সবার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে দুর্ভোগ কমাতে সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য যার যার সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার স মিল থেকে কাঠ দিয়ে সেতুর অবকাঠামো তৈরি করছি। অন্যরাও কাঠ, টাকাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।

গাজীপুরে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আরাফত বেপারি বলেন, ‘আমরা অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী এ কাঠের সেতু তৈরিতে যুক্ত আছি। সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে এ সেতুটি নির্মাণে লক্ষাধিক টাকা লাগবে। এ কাজে এলাকাবাসী অর্থসহায়তা দিচ্ছেন। সেতুর দুপাশে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাদের কথা মাথায় রেখে দ্রুত সময়ে এটি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।’

স্থানীয় সমাজকর্মী খোরশেদ আলম বলেন জনগুরুপূর্ণ হলেও  সেতুটি নিয়ে দায়িত্বশীল কারও মাথাব্যথা নেই। সেতুটি পৌরসভার দুটি ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় কেউ তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অবহেলায় পড়ে আছে এটি। এটি নিয়ে আমরা বহুজনের কাছে গিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। শেষমেশ এলাকাবাসী এ সেতুটি মজবুতভাবে তৈরি করতে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছে আর অর্থ ব্যয় করছে।

শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আক্তার বলেন, ওই সেতুর বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে। তবে কাঠ দিয়ে স্থানীয়রা করছেন এটি জানা নেই। সেখানে একটি ব্রিজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। এটি বেশ বড় আকারের ব্রিজ যা পৌরসভার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই মন্ত্রণালয়ে এটি নিয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ে সেখানে একটি ব্রিজ হয়ে যাবে। এতে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত