কিছু দল বিএনপির নামে রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে : রিজভী

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৭:৪৯ এএম

ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এতে কোনো লাভ হবে না। কারণ, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে। তারপরও এ ঘটনায় বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যাদের নাম পাওয়া গেছে, তাদের রাতেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপকর্ম, সংঘাত কিংবা মানুষ হত্যায় যারা জড়িত, তাদের কোনো ছাড় নেই, বিএনপি তাদের ছাড় দেয় না।’

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে গতকাল শুক্রবার একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সত্য যে বিষয়টি, সেটি উদঘাটন করার দায়িত্ব হচ্ছে প্রশাসনের বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। বিএনপি একটি বৃহৎ পরিবার কোনো ছিদ্রপথে দু-একজন দুষ্কৃতকারী ঢুকে পড়ে, সেটি সবসময় খোঁজ রাখা যায় না। কিন্তু দুষ্কৃতকারীদের কোনোভাবে যদি চিহ্নিত করা যায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করেন না দল বা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার রাতে পাবনার সুজানগরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সে রাতেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। মিটফোর্ডের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক না থাকলেও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল দেখছি ওই ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙচঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখানে দল কোথায় জড়িত, হয়তো দলের নামধারী কেউ হতে পারে। এটা তো দলের পদ-পদবি নিয়ে সংঘর্ষ হয়নি। দলের মতাদর্শ নিয়ে ঝগড়া হয়নি। ঝগড়া হচ্ছে তাদের ব্যবসা নিয়ে, এগুলো তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ঘটনার সঙ্গে দল হিসেবে বিএনপি কোথায় জড়িত?’

তিনি বলেন, ‘যে নিহত হয়েছেন, আর যারা ঘাতক, তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছে। এটি যুগ যুগ ধরে তারা করে আসছে। এখন পটপরির্বতন হয়েছে, ওয়ার্ড পর্যায়ের কেউ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে পারে, যা মহানগর বা কেন্দ্রীয় নেতারা জানেন না; রুট-লেভেলে তো সবকিছু বোঝাও যায় না। দু-একটি রাজনৈতিক দল মিছিল করে, বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। আমরা যদি শেখ হাসিনার মতো নিশ্চুপ থাকতাম, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতাম, তাদের বহিষ্কার না করতাম, তাহলে এক কথা ছিল। তাহলে আপনারা মিছিল করছেন কেন?’

জামায়াত-শিবিরকে ইঙ্গিত করেন রিজভী বলেন, ‘আমরা ভুলে যাইনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কীভাবে পায়ের রগ কাটা হয়েছে, কীভাবে বাসের ভেতর থেকে ছাত্রদল নেতাকে ধরে এনে বিনোদপুর গ্রামে হত্যা করা হয়েছে। এখনো আপনাদের দেখলে পরে সেই উপাধিগুলো মানুষ দেয়। আর আপনারা এখন মিছিল করেন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, এবিএমএ রাজ্জাক, এম কফিল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত