আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১১ জনকে গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিএনপি। এতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এবং বিএনপির মামলা, গুম, খুন, ও তথ্যসংরক্ষক সমন্বয়ক মো. সালাহ উদ্দিন খান। অভিযোগে ২০১৯ সাল থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগকারীরা হলেন, মোহাম্মদ আলী খান, মো. জিল্লুর রহমান, আকিদুল আলী, খোরশেদ আলম, অ্যাডভোকেট আশরাফ আলী, মো. বাবুল, এনামুল, এরশাদ আলী, মো. গিয়াস উদ্দিন খান, মো. কবির উদ্দিন খান ও নজরুল ইসলাম। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলীকে হাত ও চোখ বেঁধে পূর্বাচলের শেষপ্রান্তে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফেলে আসে। দীর্ঘ ৫ বছর ৩ মাস ১৩দিন পর মোহাম্মদ আলী মুক্তি পান। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলী খানসহ ১১ জনকে অপহরণ করে গুম করে, নির্যাতন করে অনারারি ক্যাপ্টেন জহুরুল হককে হত্যা করে এবং অন্যদের নির্যাতন করে জখম করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুরুতর অপরাধসহ নানা অপরাধ আসামিরা করেছে।
সালাহ উদ্দিন খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গুমের অভিযোগে প্রসিকিউশনে একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। প্রসিকিউশন অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠাবে এবং আইন অনুযায়ী পরে ব্যবস্থা নিবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। এর আগে ২০০৮ সাল থেকে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির ২ হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং ১৫৩ জনকে গুমের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে পৃথক আবেদন দাখিল করেন সালাহ উদ্দিন খান।
