পেজেশকিয়ানকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল!

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৭:৪৪ এএম

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এমনটাই দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। তাদের প্রতিবেদন বলছে, তেহরানে গত ১৬ জুন হামলা হওয়া ওই ভবনটিতে সে সময় ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠক চলছিল। বৈঠকের সময় চালানো হামলায় আহত হয়েছিলেন পেজেশকিয়ান। গতকাল রবিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ তথ্য জানায়। ফার্স নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যে ভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা বোমা ব্যবহার করে ইসরায়েল। তবে দেহরক্ষীরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পেজেশকিয়ানকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এ বৈঠকের বিষয়ে ইসরায়েলকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সেদিন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ও পার্লামেন্টের স্পিকারকে হত্যার চেষ্টাও করে ইসরায়েল। ফার্স নিউজের দাবি, বৈরুতে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যার আদলে এ হত্যাচেষ্টা করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। ইরানি কর্মকর্তারা ছিলেন ভবনের নিচের দিককার অংশে। বিস্ফোরণগুলোর পর ওই তলার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে আগেই একটি গোপন জরুরি পথ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, হামলার পর ওই পথ দিয়েই কর্মকর্তারা ভবনটি থেকে বের হন, বলছে ফার্সের প্রতিবেদন।

এদিকে, পার্লামেন্ট বিধিনিষেধ আরোপ করলেও জাতিসংঘের পারমাণবিক ওয়াচডগ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) সহযোগিতা করার পরিকল্পনা ইরানের আছে বলে মন্তব্য করেছেন শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেই সঙ্গে ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা দিলে পারমাণবিক ইস্যুতে ইউরোপের ভূমিকা শেষ হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির প্রসঙ্গও তিনি জোরের সঙ্গে তুলে ধরেছেন আরাগচি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গত মাসের হামলার পর ইরানে পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী দেশটির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ পরিষদ অনুমতি না দিলে আইএইএ তাদের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারবে না।

পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেন, দেশটির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হলে তেহরানের পারমাণবিক ইস্যুতে ইউরোপের ভূমিকা শেষ হয়ে যাবে। ২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেশটির সঙ্গে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ বা জেসিপিওএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ইসরায়েলের অনুরোধে ২০১৮ সালে ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং পরের বছর ইরানও চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। জেসিপিওএ চুক্তির একটি ধারা অনুযায়ী, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে দেশটির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হবে। আরাগচি বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, আমরা আলোচনা শুরুর সময়, স্থান, কাঠামো, উপাদান ও সম্ভাব্য আলোচনার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে যে নিশ্চয়তা প্রয়োজন, তার সবকিছু খতিয়ে দেখছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত