ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ৬০ জন সদস্য ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। গত শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে দেওয়া এক চিঠিতে তারা এ দাবি তোলেন। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ এক ঘোষণায় জানান, গাজার সব অধিবাসীকে স্থানান্তর করে রাফার ধ্বংসস্তূপের ক্যাম্পে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর প্রতিক্রিয়ায় ল্যামির কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, গাজায় জাতিগত নিধন চলছে। ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় মধ্য ও বামপন্থি, উভয় ঘরানার রাজনীতিবিদ রয়েছেন। এর মাধ্যমে লেবার পার্টির এমপিরা দ্বিতীয়বারের মতো সম্মিলিতভাবে গাজার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা চালালেন।
তবে এই চিঠি একদিক থেকে প্রথম, কারণ এবারই প্রথম তারা প্রকাশ্যে নিজেদের নাম সংযুক্ত করেছেন। চিঠিটি ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইন অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট’ সংগঠনের উদ্যোগে তৈরি হয় এবং এতে সংগঠনটির দুই যুগ্ম সভাপতি সারা ওয়েন ও অ্যান্ড্রু প্যাকেসসহ মোট ৫৯ জন এমপি স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজার সব বেসামরিক নাগরিককে রাফার ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে একটি শিবিরে জোর করে স্থানান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ওই ঘোষণার কারণে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে আমরা এই চিঠি লিখছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হতে ইসরায়েলকে বাধা প্রদান করতে ব্রিটেনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যের অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তারা আরও বলেন, কার্টজের ঘোষণাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি কার্যকরী পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করেছেন তার দেশেরই এক শীর্ষ মানবাধিকার আইনজীবী মাইকেল স্ফার্ড। আমাদের মতে, গাজাবাসীর সঙ্গে যা হতে যাচ্ছে, তার সঠিক শব্দবন্ধ হলো জাতিগত নির্মূলকরণ। তাদের এই চিঠি লেখার আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের জন্য রাষ্ট্র স্বীকৃতির আহ্বান জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
ওই চিঠিতে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেছেন ব্রিটিশ এমপিরা। এর কিছু সরকার ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করছে। যেমন, ইউএনআরডব্লিউএ-কে সহায়তা প্রদান ও হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তির প্রচেষ্টা। তবে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো দাবি বাস্তবায়নে তাদের বেশ বেগ পেতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফ্রান্স নিজে থেকে এখনো স্বীকৃতি না দিলেও মিত্রদের ওপর এই পথে হাঁটার জন্য চাপ বৃদ্ধি করছে।
এদিকে, শনিবার গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে আরও ১১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ গেছে ৩৪ জনের। গত শনিবার রাফার দক্ষিণাঞ্চলের জিএইচএফ কেন্দ্রের কাছে হামলা চালায় আইডিএফ। গতকাল রবিবারও উপত্যকাজুড়ে অন্তত ৭০ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, একদিন আগেই ত্রাণপ্রত্যাশীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানায় জাতিসংঘ। সংস্থাটির হিসাব বলছে, গাজায় ৬ সপ্তাহে ৮ শতাধিক ত্রাণপ্রত্যাশীকে হত্যা করেছে আইডিএফ। ইসরায়েলি বর্বরতায় গাজা শিশু এবং ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য কসাইখানায় পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন। মানবিক করিডরের পাশাপাশি গোটা উপত্যকাতেই হামলা চালাচ্ছে আইডিএফ। গাজার উত্তরাঞ্চলের বেই হানুন এলাকায় শনিবার ৪০টি বিমান হামলা হয়েছে। বোমা হামলা হয়েছে গাজা সিটিতেও।
