গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৭৮ ফিলিস্তিনি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৮:৩৫ এএম

ইসরায়েলি বাহিনী আবারও ভয়াবহ আক্রমণ চালিয়েছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে। আজ মঙ্গলবার একদিনেই এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৭৮ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে অনেকে ছিলেন ত্রাণ সহায়তা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেছে আরও অন্তত পাঁচজনের। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্রের আশপাশে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৮।

একই দিনে দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরের একটি শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলায় মারা গেছেন ৯ জন। আহত হয়েছেন অনেকেই। কেন্দ্রীয় গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাণিজ্যিক ভবনে চালানো পৃথক এক হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৪ জন।

ইসরায়েলি সেনারা উত্তর গাজা ও গাজা শহরেও হামলা জোরদার করেছে। গাজা শহরে একটি ট্যাংকে রকেট ও পরে হালকা অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। এতে তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ব্যাপক পাল্টা বিমান হামলা চালিয়ে টুফাহ ও শুজাইয়া এলাকার অনেক আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। শুধু গাজা শহরেই এদিন নিহত হয়েছেন ২৪ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

মানবিক সহায়তার পরিস্থিতিও দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা বারবার ত্রাণ প্রবেশের দাবি জানালেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক ডেসালিনেশন প্লান্ট, পানি পাম্পিং স্টেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। ফলে বিশুদ্ধ পানি, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েল চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে গাজায় জ্বালানি প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও সম্প্রতি ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ত্রাণ প্রবাহ বাড়াতে একটি চুক্তি হয়, তবে মিসরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি জানিয়েছেন, বাস্তবে ‘কোনো পরিবর্তন হয়নি’। একই সুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নও বলেছে, ‘চুক্তি হয়েছে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়।’

এদিকে কাতারে দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে হামাস ও ইসরায়েলের পরোক্ষ আলোচনা। তবে এখন পর্যন্ত তা তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে এসেছে গাজায় ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মানচিত্র। দুপক্ষের অবস্থানের ফারাক কমিয়ে আনতে নতুন কোনো কৌশল খোঁজার কথাও বলছে সূত্রগুলো।

হামাসের অভিযোগ, ‘নেতানিয়াহু বারবার আলোচনার পথ ভেঙে দিচ্ছেন। তিনি কোনো বাস্তব সমঝোতা চান না।’

অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে—যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে, সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, জনগণের চাপও দিন দিন বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত