টেস্টে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ইনিংস, ৭ ব্যাটারের ০, স্টার্কের ১৫ বলে ৫ উইকেট

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৯:০৮ এএম

‎কিংস্টনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে মাত্র ২৭ রানে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এটি টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ, ১৯৫৫ সালে অকল্যান্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের করা ২৬ রানের চেয়ে মাত্র এক রান বেশি।

‎এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ইতিহাসে তাদের সর্বনিম্ন ইনিংস স্কোর।আগেরটি ছিল ২০০৪ সালে কিংস্টনেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা ৪৭ রান।

‎দুই ইনিংসে মিলিয়ে ক্যারিবীয়দের মোট রান ছিল মাত্র ১৭০, যা তাদের টেস্ট ইতিহাসে দুইবার অলআউট হয়ে সবচেয়ে কম রান। এর আগে সবচেয়ে কম ছিল ১৭৫, ১৯৫৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে।

‎ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪.৩ ওভারেই অলআউট হয়ে যায়—টেস্ট ইতিহাসে এটি তৃতীয় দ্রুততম অলআউট ইনিংস। কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা (১২.৩ ওভার, ১৯২৪) ও শ্রীলঙ্কা (১৩.৫ ওভার, ২০২৪) এগিয়ে।

‎সেই ইনিংসে ৭ জন ব্যাটার শূন্য রানে আউট হন, যা টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ডাকের রেকর্ড। এর আগে এক ইনিংসে ছয়টি ডাকের ঘটনা ঘটেছিল ৯ বার।

মাত্র ১৫ বলে ৫ উইকেট স্টার্কের

‎অস্ট্রেলীয় পেসার মিচেল স্টার্ক মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট তুলে নেন, যা পুরুষদের টেস্টে সবচেয়ে দ্রুততম পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। তিনি আগের রেকর্ডধারী স্টুয়ার্ট ব্রড, স্কট বোল্যান্ড ও আর্নি টশ্যাকের চেয়ে চার বল কম নিয়েছেন (১৯ বল)।

‎ম্যাচে দু’দলের মিলিত রান ছিল ৫১৬, যা টেস্ট ইতিহাসে সপ্তম সর্বনিম্ন এবং ১৯১০ সালের পর সবচেয়ে কম রানসংখ্যার টেস্ট, যেখানে দুই দলই দুবার অলআউট হয়। সবমিলিয়ে ১০৪৫টি বল খেলা হয়েছে—১৯১০ সালের পর চার ইনিংসের টেস্টে সবচেয়ে কম। এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজে ড্র ছাড়া শেষ হওয়া সবচেয়ে ছোট তিন টেস্টের একটি।

‎স্টার্ক ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসের প্রথম ওভারেই তিন উইকেট তুলে নেন। ২০০২ সালের পর টেস্টে ইনিংসের প্রথম ওভারে তিন উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার তিনিই, এর আগে ভারতের ইরফান পাঠান ২০০৬ সালে করাচিতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

‎এই ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ০/৩ দিয়ে শুরু করে। এটি টেস্টে ষষ্ঠবার কোনো দল রান না করেই তিন উইকেট হারাল।

‎স্টার্ক ২০১৫ সালেও এই মাঠে চতুর্থ ইনিংসে প্রথম ওভারেই দুই উইকেট নিয়েছিলেন। ২০০২ সালের পর তিনিই একমাত্র বোলার, যিনি দুইবার ইনিংসের প্রথম ওভারে একাধিক উইকেট নিয়েছেন।

‎ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ ছয় ব্যাটার মিলে করেন মাত্র ৬ রান, যা টেস্ট ইতিহাসে কোনো দলের টপ-৬ ব্যাটারের যৌথভাবে সর্বনিম্ন রান। আগের সর্বনিম্ন ছিল ১২ রান, ১৮৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডে।

‎মিচেল স্টার্ক টেস্টে ৪০০তম উইকেট পূর্ণ করতে বল করেছেন ১৯,০৬২টি, যা বলে হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম। তার আগে রয়েছেন শুধু ডেল স্টেইন (১৬,৬৩৪ বল)।

‎স্কট বোল্যান্ড এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন, যা অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ১০ম বার। পিটার সিডলের পর তিনিই প্রথম, যিনি ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার হ্যাটট্রিক সংখ্যা এখন ১২, ইংল্যান্ডের (১৫টি) পরেই।

‎স্টার্কের ৬ উইকেট ৯ রানে নেওয়া পারফরম্যান্সটি এখন কারও ১০০তম টেস্ট ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগার। আগের সেরা ছিল মুরালিধরনের ৬/৫৪, বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০৬ সালে।

‎পুরো ম্যাচে একজনও হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি। স্টিভেন স্মিথের ৪৮ ছিল সর্বোচ্চ ইনিংস। এটি টেস্ট ইতিহাসে ১৬তম ম্যাচ, যেখানে দুই ইনিংস মিলিয়ে কেউ ফিফটি করতে পারেনি।



×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত