ঢাকার ঐতিহাসিক মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নির্মমভাবে খুন হওয়া ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অন্যতম আসামি নান্নুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল সোমবার রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে র্যাব-১১-এর একটি দল তাকে আটক করে।
গত বুধবার হাসপাতালের সামনের ব্যস্ত সড়কে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে সোহাগকে পিটিয়ে এবং মাথায় ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে শরীর থেঁতলে ফেলা হয়। হত্যার আগে তাকে বিবস্ত্র করা হয় এবং হামলাকারীদের কয়েকজন তার শরীরের ওপর লাফাতে থাকে—যা এলাকাবাসীকে শঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, পুরান ঢাকার কিছু যুবকের সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহাগ ওই দিন দুপুরে তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সেখানে যান। সন্ধ্যার দিকে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহত সোহাগ ভাঙারির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—পুরনো তামার তার, অ্যালুমিনিয়ামের শিটসহ বিভিন্ন ধাতব সামগ্রী কেনাবেচা করতেন।
পরিবার জানায়, একসময় সোহাগ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। পেছনে রেখে গেছেন স্ত্রী ও দুটি সন্তান—১৪ বছর বয়সী মেয়ে সোহানা ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ১১ বছরের ছেলে সোহান চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন, বৃহস্পতিবার, নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোহাগকে হত্যার নৃশংসতা ও জনবহুল স্থানে এই ধরনের ঘটনা রাজধানীজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে নতুন করে প্রশ্ন।
ডলার সস্তা, রিজার্ভে স্বস্তি
টিভিতে আজ যেসব খেলা