পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সীমান্তে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলার অধিকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেই। যারা এ কাজ করছে তাদের যেন ভারতীয় আইনে বিচার করা হয়।
গতকাল বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানের মাসব্যাপী ফটোগ্রাফি এবং গ্রাফিতি প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ জানানোর ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান নমনীয় কি না, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, মোটেই নয়, আমরা স্পষ্টভাবে বলছি যে, সীমান্তে আইন ভঙ্গ করলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলার অধিকার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নেই। আমরা নিয়মিত এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েও আসছি। ভারত থেকে পুশইন করাদের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, তাদের ফেরাতে আমাদের কোনো চেষ্টা করতে হবে না। তাদের নাগরিক, তারা ফিরিয়ে নেবে। এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। এটা নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ভারতের নাগরিক যারা আছেন, তারা অবশ্যই ফেরত যাবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে প্রক্রিয়া করতে একটু সময় লাগবে।
তিনি বলেন, পুশইন চলছে, তবে ভারতের সঙ্গে যে অ্যারেঞ্জমেন্ট আছে, এটা তার পরিপন্থী। তাদের একাধিকবার বলেছি, তোমাদের সঙ্গে একটা মেকানিজম আছে, তোমরা তালিকা দেবে, আমরা সেটা দেখব। আমাদের লোক হলে আমরা অবশ্যই ফেরত নেব। আর অ্যারেঞ্জমেন্টের মাধ্যমে আমরা সম্প্রতি বেশ কিছু নাগরিককে ফেরত নিয়েছিও। আমরা ইনসিস্ট করছি, তারা যেন এই পদ্ধতি বজায় রাখে। আমাদের প্রত্যাশা এটাই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। বলতে চাই না এ কারণে যে, নেগোসিয়েশন এখনো চলমান। নেগোসিয়েশন চলমান অবস্থায়, এ নিয়ে কমেন্ট করে...আমি যেহেতু সরকারের মানুষ, সরকারের পক্ষ থেকে আমি কোনো বিব্রত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না। এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের (গোপনীয়তার চুক্তি) কথা বলেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। নন-ডিসক্লোজার চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, নন-ডিসক্লোজার চুক্তি হতেই পারে, এ তথ্যটা আমরা গোপন রাখব। এ ক্ষেত্রে কী হবে না হবে...আমি কিন্তু সব কিছু জানিও না। আমি এ সম্পর্কে কোনো কমেন্ট করতে চাই না। যেহেতু নেগোসিয়েশন চলছে, দেখি ফলাফল কী দাঁড়ায়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা আগামী আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
