২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় হাইকোর্টে আসামিদের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগে এ শুনানি শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ গতকাল এ মামলার নথি থেকে পড়ে শোনায়। পরে শুনানি শেষে আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আপিলের শুনানি শুরু করেছি। লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) মঞ্জুর করে যে আদেশ হয়েছিল, সেটি এবং হাইকোর্টের রায়ের ওপর শুনানি করেছি। আদালত গতকাল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন।’ এর আগে গত মঙ্গলবার শুনানির জন্য গতকাল ধার্য করেছিল আদালত। গত ২৮ মে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পায় রাষ্ট্রপক্ষ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দলটির ২৪ নেতাকর্মী মারা যান। তিন শতাধিকের বেশি নেতাকর্মী আহত হন। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এক রায়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ- এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়। গত বছরের ১ ডিসেম্বর এ মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন), আপিল, জেল আপিল ও অন্যান্য আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট অধস্তন আদালতে ছয় বছর আগে দেওয়া রায় বাতিল করে। ফলে অধস্তন আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১৯ জন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৯ জনের সবাই খালাস পান। পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট বলে, অধস্তন আদালতে ছয় বছর আগে দেওয়া এ মামলার রায়টি ছিল অবৈধ। এ মামলায় মুফতি হান্নানের দ্বিতীয়বার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া ছিল বেআইনি। ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এ মামলাটি যথাযথ ও বিশেষজ্ঞ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে তদন্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উচিত বলে অভিমত দেয় হাইকোর্ট।
