ইয়ামালের জার্সি ঘিরে উন্মাদনা, ২৪ ঘণ্টায় বার্সার আয় ১০ মিলিয়ন ইউরো

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ০৬:৪৫ পিএম

বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির সাবেক জার্সি নম্বর ১০ এবার উঠেছে তরুণ লামিন ইয়ামালের গায়ে। এই ঘোষণাতেই যেন বার্সার সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসব। নতুন ১০ নম্বরের জার্সি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রীতিমতো বিপণন বিস্ফোরণ।

কাতালান গণমাধ্যম কুলেমানিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামালের নাম-সংবলিত নতুন ১০ নম্বর জার্সি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭০ হাজারটি। এতে ক্লাবের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২০ কোটি টাকারও বেশি।

বুধবার দুপুরে ঘোষণা আসে—নতুন মৌসুমে বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সি পরবেন ইয়ামাল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বার্সেলোনার ‘স্পোটিফাই ক্যাম্প ন্যু’-এর বার্সা বতিগা দোকানে জার্সি কিনতে ভিড় করেন সমর্থকেরা।

পরদিন বৃহস্পতিবার বিক্রির হার বেড়েছে আরও বেশি হারে। বার্সেলোনা এখনও আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান না জানালেও ক্লাব-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে—এটি ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সেরা মার্চেন্ডাইজ বিক্রির ঘটনা।

এই জার্সি বিক্রির সাফল্য কেবল অঙ্কের খেলা নয়, এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী বিপণন পরিকল্পনাও। বার্সা কর্তৃপক্ষ মনে করে, ইয়ামাল শুধু ভবিষ্যতের বড় তারকাই নন, মেসির উত্তরাধিকার বহন করার উপযুক্ত প্রতিনিধি।

এই জার্সির চাহিদা নিয়ে বার্সা ও নাইকির পক্ষ থেকেও ছিল বাড়তি প্রস্তুতি। আগেই বাড়ানো হয়েছিল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা, যাতে চাহিদা বাড়লেও প্রথম দফার মধ্যে ‘স্টক আউট’ না হয়।

এছাড়া নাইকির সঙ্গে নতুন চুক্তির ফলে বার্সেলোনা নিজেদের অনলাইন স্টোরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। অনলাইনে বিক্রিও হয়েছে চোখে পড়ার মতো, যা প্রথম দিনের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এই সাফল্য বার্সা লাইসেন্সিং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং (বিএলএম)-এর জন্য এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। ক্লাবের সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিক্রির সর্বকালের রেকর্ড ভাঙার পথে বার্সা।

গত মৌসুমে বিএলএমের আয় ছিল আনুমানিক ১৪০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ইউরো। এবার সেই অঙ্ক ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা।

তার ভাষায়, ‘ইয়ামালের জনপ্রিয়তা আর আমাদের বিপণন কৌশলের মিলন এই মৌসুমকে বার্সার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক মৌসুমে পরিণত করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত