বিএনপি নেতাকর্মীদের ফয়জুল করীম

আপনারা তো জিয়াউর রহমানের আদর্শও মানেন না

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫, ০৯:৩২ পিএম

বিএনপি নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের আদর্শ মানে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা কেন পেশিশক্তি দেখাতে চান। আপনারা কেন পেশিশক্তি ব্যবহার করবেন। এটা বিএনপির কাজ না। পেশিশক্তি ব্যবহার করা বিএনপির কাজ না। এটা জিয়াউর রহমানের আদর্শ না। আপনারা তো জিয়াউর রহমানের আদর্শও মানেন না।’

শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকালে পৌর শহরের ফৌজদারি মোড়ে ইসলামী যুব আন্দোলন জেলা শাখার আয়োজনে এ যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমি সমাবেশে আসার সময় বিএনপির একটা প্রোগ্রাম থেকে আমার বন্ধুরা আমাকে বলেছে— ‘‘ওই দেখ, মিথ্যাবাদী যায়’’। কি মিথ্যা বলছি বলেন? জীবনে একটা কি মিথ্যা বলছি? যদি বলেন— হুজুর এই কথা বলছেন, ‘চাঁদা তুলে পল্টনে, চলে যায় লন্ডনে’। আমি বলছি— এ কথা আমার না, বিএনপিকে বলেছি এই কথা উঠতেছে সতর্ক হন।’

তিনি বলেন, ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসালাম। আবার ২০০১-এ মানুষ তাদের ভোট দেয়নি কেন? আবার নিয়ে আসছি কাকে? ওই যে— ৯১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত যে ক্ষমতায় থেকে ফেল করছিল, তাকে আবার নিয়ে আসছি। মানুষ ভেবেছে— হয়তো বুঝে নাই, পারে নাই, তাকে আবারও নিয়ে আসলাম। ২০০১ থেকে ২০০৬ এর মধ্যে কারবার শেষ। আবার আন্দোলন, সংগ্রাম। চলে আসছে কে? মঈনউদ্দিন, ফখরুদ্দিন। উভয় ব্লক, উভয় গৃহবন্দী। মাইনাস টু থিউরি। উভয়কে হটাও।

যে ব্যক্তি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে ফেল করছে, আগামীতে রেজাল্ট কি হবে এমন প্রশ্ন রেখে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির বলেন, ‘আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে ফেল করছে। আগামীতে রেজাল্ট কি হবে। এবার ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হবে।

ফয়জুল করীম বলেন, ‘রাগ করিয়েন না। পারেন তো শুধু পেশিশক্তি ব্যবহার করতে। বুদ্ধিশক্তি ব্যবহার করেন। পেশিশক্তি দিয়ে সরকার থাকতে পারে না। শেখ হাসিনা পেশিশক্তি দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারে নাই। মেধাশক্তি লাগবে, বুদ্ধিশক্তি, আকর্ষণ শক্তি লাগবে। 

তিনি বলেন, ‘১৯৯১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। ১৯৯৬ সালের বিএনপি আর ক্ষমতায় আসতে পারে নাই, কারন জানেন তো। আাবার ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি একক নির্বাচন হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও, আমরা একাই নির্বাচন করবো। তিনি একাই নির্বাচন করেন। সেই নির্বাচনে ক্ষমতার মেয়াদ ছিল মাত্র ১৬ দিন। ১৬ দিন পর আবার সে বিদায় হলেন। আবার কে আসছে। ওই শেখ সাহেবের কন্যা। মানুষ ভেবেছে শেখ সাহেবের কন্যাকে যদি আবার ক্ষমতায় বসায়, তওবা-তিল্লাহ করছে, তজবিহ ধরছে, ঘুমটা মারছে, পর্দা করছে, তাহাজ্জুদ পড়ছে। যদি এবার তাকে ক্ষমতায় বসায় তাহলে হয়তো বা দেশ ভালো হবে। আবার ২০০১ এ মানুষ তাকে ভোট দেয়নি কেন?’

যুব আন্দোলনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি রহমতুল্লাহ বিন হাবিব।

যুব সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মোস্তফা কামাল, ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সহ-সভাপতি মুফতি সালেহ আহমেদ, সেক্রেটারি মওলানা সুলতান মাহমুদ সিরাজী, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি মো. ময়নাল হোসেন, ইসলামী যুব আন্দোলন কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মো.জাহিদুল ইসলাম, যুব আন্দোলন জেলা শাখার উপদেষ্টা আলহাজ্ব মো.শামছুল হক, ক্বারী রজব আলী, সাবেক সভাপতি এইচ এম আব্দুল্লাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি নাহিদ খানসহ অনেকেই। 

এ সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের জেলা-উপজেলার নেতা-কর্মীসহ শেরপুর, ময়মনসিংহ জেলার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত