বিএমইউতে ক্যান্সার রোগীদের রেডিওথেরাপির দ্বিতীয় শিফট চালু

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ ব্লকে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগে চালু হয়েছে ক্যন্সারে আক্রান্ত রোগীদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি চিকিৎসাসেবার দ্বিতীয় শিফট।

আজ রবিবার দুপুরে এই চিকিৎসাসেবার উদ্বোধন করেন বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দ্বিতীয় শিফট চলবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এর আগে থেকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রথম শিফট চালু রয়েছে। প্রথম শিফটে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীকে রেডিওথেরাপি সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দ্বিতীয় শিফট চালু হওয়ায় প্রতিদিন আরও ২৫ রোগীকে বিশ্বমানের রেডিওথেরাপি সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সে হিসাবে প্রতিমাসে পূর্বের থেকে ৬০০ থেকে ৭০০ বেশি রোগীকে রেডিওথেরাপি দেওয়া সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে প্রতিমাসে ১৭০০ থেকে ১৮০০ রোগীদের রেডিওথেরাপি সেবা দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ জানায়, এই বিভাগে রয়েছে বিশ্বমানের রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওথেরাপি) এর সমন্বয়ে গঠিত সুদক্ষ রেডিয়েশন অনকোলজি টিম, যারা ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপি দেবেন।

অনুষ্ঠানে বিএমইউ উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগে রেডিওথেরাপি চিকিৎসাসেবার দ্বিতীয় শিফট চালু করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের জন্য এটা একটা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। দুপুরে হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেনো নিস্তব্ধতা নেমে আসে, রেসিডেন্টরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। এভাবে দ্বিতীয় শিফট চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সন্ধ্যা পর্যন্ত, এমন কি তারপরেও থাকবে প্রাণবন্ত ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর।

এর মাধ্যমে এখানে অধ্যয়নরত রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। রোগীরা বেশি করে চিকিৎসাসেবা পাবেন। অধিক সংখ্যক রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মাঝে মিথষ্ক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে। রেসিডেন্টরা নিজেদেরকে আরো দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান গবেষণা কার্যক্রমও আরো সমৃদ্ধ ও জোরদার হবে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীরা আরো বেশি করে চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সাথে দ্বিতীয় শিফটের জন্য ফ্যাকাল্টি নিয়োগের বিরাট সুযোগ তৈরি হবে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রেডিওথেরাপি সেবা নিতে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, এখন সেই অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। এটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অর্জন।

ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সৈয়দ আকরাম হোসেন জানান, সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। রোগীদেরকে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়া নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবাকে সহজলভ্য করার বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকল ধরনের ক্যান্সার চিকিৎসার বিশ্বমানের থেরাপেটিক গাইড লাইন তৈরি করা, দেশে প্রথমবারের মতো অর্গান বেইসড ট্রিটমেন্ট চালু করাসহ বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত