বিদেশ সফর নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন। জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন না হলে আর বিদেশ সফরে যাবেন না।
একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে উপস্থিত হয়ে এই কথা বলেন ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষমতাবান কর্তা।
বিগত কিছু মাসে নাজমুলের একাধিক বিদেশ সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কেউ কেউ তাকে ব্যঙ্গ করে ‘টিএ-ডিএ ডিরেক্টর’ বলেও আখ্যায়িত করেন। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নাজমুল।
বলেছেন, 'সব সফরে আমি গেছি এমন নয়। অনেক সফরে মাত্র ৪-৫ দিন থেকেছি। কিছু সফরে তো যাইইনি। যেমন, ইউএই সফরে আমার যাওয়ার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তবে পাকিস্তান সফর নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নিতে হলো, তখনই দ্রুত ইউএই গিয়ে খেলোয়াড়দের মতামত নেওয়ার দরকার পড়েছিল। কারণ আমি দায়িত্বে আছি, আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় দল যাবে কিনা, সাপোর্ট স্টাফ যাবে কিনা।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'পাকিস্তান সফরের সময় ৬-৭ জন খেলোয়াড় এবং দলের কয়েকজন সদস্য যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তখন আমিই বলি, আমি নিজেই পাকিস্তান যাচ্ছি। এরপর হেড কোচ ফিল সিমন্সও রাজি হন। পরদিন সকালে সবাই রাজি হলেও নাহিদ রানা যেতে চায়নি। এসব কারণেই তখন পাকিস্তান যেতে হয়েছিল।'
শ্রীলঙ্কা সফর নিয়েও সমালোচনার জবাব দেন নাজমুল। বলেন, 'শুরুতে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে শানতোকে যখন জানানো হয় নতুন অধিনায়ক হবে, তখন বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বোর্ড মনে করল কাউকে সেখানে পাঠানো দরকার, যিনি গিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারবেন। এজন্যই আমি মাত্র ৪-৫ দিন ছিলাম, পুরো সিরিজে নয়।'
অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি বিগত কর্মস্থলগুলোতে যুক্ত ছিলেন। সে প্রসঙ্গেও সাফাই দেন নাজমুল, 'আমি বোর্ডে যোগদানের পর অন্য সব প্রতিষ্ঠান থেকে সরে এসেছি। কারণ আমি জানতাম, একসাথে থাকা যাবে না। স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। কাজেই যদি অন্য চাকরি ছেড়ে এখানে পুরো মনোযোগ দিই, তাহলে কেউ যদি ভেবে বসে আমি শুধু টিএ-ডিএ’র জন্য সফরে যাই, সেটা অন্যায়।'
সবশেষে স্পষ্টভাবে বলেন, 'আমি নিশ্চিত করছি, ভবিষ্যতে প্রয়োজন না হলে আর বিদেশ সফরে যাব না।'
অধিনায়কত্ব ইস্যুতেও বক্তব্য দেন তিনি। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, নাজমুল হোসেন শানতোকে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নাজমুল বলেন, 'চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর আর কোনো ওয়ানডে অধিনায়ক ছিল না। কাজেই শানতোকে সরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বোর্ড নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করেছে, এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। শানতো হয়তো ভেবেছিল পরের সিরিজেও নেতৃত্ব পাবে, ভাবা দোষের নয়। তবে বোর্ড চাইলে তাকে আবারও অধিনায়ক করতে পারত, সেটাও আলাদা ঘোষণা সাপেক্ষে।'
তিনি আরও বলেন, 'নিয়ম অনুযায়ী আমি শানতো এবং নতুন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ—দুজনকেই জানিয়ে দিই। এখানে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা অপমানের কিছু ছিল না। বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছি মাত্র।'
বিদেশ সফর থেকে শুরু করে অধিনায়কত্ব ইস্যু—সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা বিসিবির এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার ব্যাখ্যা শুনে সমালোচকদের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
৬+৬ দলের দ্বিস্তর টেস্ট কাঠামোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আইসিসির কমিটি
নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের সঙ্গী হলো ইরান
মিরপুরের উইকেটে আন্তর্জাতিক মানের না: হেসন, পাকিস্তান মানিয়ে নিতে পারেনি: ইমন