অভিষেকেই ঝলসে উঠলেন মিচ ওয়েন, অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয়

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ০১:০২ পিএম

স্যাবাইনা পার্কে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই বাজিমাত করলেন মিচ ওয়েন। ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার তার ব্যাটিং প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিলেন তিন উইকেটের দারুণ এক জয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয় পাওয়ার পথে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া এক হাফসেঞ্চুরি খেলেন ওউন, দেখান ভবিষ্যতের ভরসার জায়গা হয়ে ওঠার ইঙ্গিত।

১৯০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে যখন ৭৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে অস্ট্রেলিয়া, তখন ক্রিজে নামেন ওউন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসেই চালিয়ে খেলতে থাকেন তিনি। স্পিনার হোক কিংবা পেসার—সবার বিরুদ্ধেই ছিল আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং। মাত্র ২৬ বলে করেন ৫০ রান, হাঁকান ৬টি বিশাল ছক্কা। যদিও পরের বলেই বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন, ততক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১৫ রান।

এর আগে ক্যারিবীয়দের দেওয়া ১৮৯ রানের লক্ষ্যটি একসময় ২০০ পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জাগালেও শেষ ৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৭ রানে থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। শাই হোপ (৫৫) ও রোস্টন চেজ (৬০) এর ফিফটিতে ১৬তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ১৫৯/২। তখনও ভীষণ শক্ত অবস্থানে ছিল তারা। কিন্তু ওউনের প্রথম আন্তর্জাতিক বলেই ফিরিয়ে দেন অধিনায়ক হোপকে। এরপর থেকেই ধস নামে স্বাগতিক শিবিরে।

চেজ, যিনি টেস্ট সিরিজে ছিলেন নিষ্প্রভ, টি-টোয়েন্টিতে ফিরে খেলেন ৩২ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস। তাতে ছিল ৯টি চার ও দুটি ছয়। তবে তিনিও ফিরেন বেন ডোয়ারশুইসের শিকারে। এই পেসার পরে এক ওভারেই তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ভেঙে দেন ক্যারিবীয়দের নিম্নক্রম।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্যামেরন গ্রিনও খেলেন মূল্যবান ইনিংস—২৬ বলে ৫১, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চার। শেষ দিকে শন অ্যাবট ও ডোয়ারশুইস দেখান অভিজ্ঞতা, ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

এই ম্যাচ ছিল আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার ১৬টি প্রস্তুতিমূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রথমটি। শক্তিশালী টেস্ট আক্রমণ বিশ্রামে রেখেই মাঠে নামে দলটি। সাদা বলের বিশেষজ্ঞ ও উদীয়মানদের নিয়ে তৈরি দলটি থেকে সুযোগ পেলেন নতুনদের অনেকে।

অন্যদিকে, সদ্য টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধরা খাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটু স্বস্তির আশায় মাঠে নামলেও শেষ হাসি হাসতে পারলো না। ইনজুরিতে থাকা এভিন লুইসের বদলে ওপেনিংয়ে আসা ব্র্যান্ডন কিং শুরুটা ভালো করেছিলেন, কিন্তু ১৮ রানে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফেরার পর চাপে পড়ে যায় দল।

প্রথম ম্যাচেই নিজের ছাপ রেখে দিলেন মিচ ওউন। ব্যাট হাতে ঝড় তোলা, বোলিংয়ে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু—সব মিলিয়ে শুরুটা মনে রাখার মতোই। অস্ট্রেলিয়া নিশ্চয়ই এই তরুণকে নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত